নন্দীগ্রামে প্রকল্পের পাহাড়! স্বাস্থ্যবিমা থেকে রেল-ব্রিজ, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় একগুচ্ছ নয়া উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সড়ক যোগাযোগ, রেল সংযোগ ও সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক বড় ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আগের সরকারের চালু করা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের আমল জুড়ে ছিল ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের কারবার।” তিনি জানান, আগের প্রকল্পে যেখানে ১৭০০টি হাসপাতালে সুযোগ মিলত, সেখানে আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্য বিজেপি সরকারের নিজস্ব ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’র অধীনে দেশের ও রাজ্যের প্রায় ১৯০০ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যাবে। নন্দীগ্রাম ১ ও ২ ব্লক মিলিয়ে বাইরে কাজ করা প্রায় ৩০,২০০ জন পরিযায়ী শ্রমিকও রাজ্যের বাইরের প্রথম সারির হাসপাতালগুলিতে এই বিমার সুবিধা পাবেন।
স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোয় একগুচ্ছ উপহার:
- স্বাস্থ্য পরিকাঠামো: নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চালু হচ্ছে ‘মা আহার’ ক্যান্টিন এবং শীঘ্রই খুলবে ‘প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি কেন্দ্র’। রেয়াপাড়া গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করা হচ্ছে। নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে তৈরি হচ্ছে নিউ ‘মাতৃমা ভবন’ এবং রোগীর পরিজনদের রাত্রিবাসের সুব্যবস্থা।
- অন্যান্য প্রকল্প: হরিপুরে নতুন দমকল কেন্দ্র, পুলিশ মর্গ এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের কোয়ার্টার সংস্কার কাজের শুভ সূচনা হয়।
- সামাজিক প্রকল্প: মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় চলতি অগস্ট মাসেই নন্দীগ্রামের ৬৭ হাজার মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৫ হাজার আবেদন যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
রেল ও সেতু সংযোগ: নন্দীগ্রাম ও হলদিয়া সংযোগকারী স্বপ্নের সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভূমিপূজনেও আমি আসব, আর ব্রিজের ওপর প্রথম গাড়িটি নিয়ে আমিই যাব।” পাশাপাশি ২০২১ সালের পর থেকে আটকে থাকা রেল প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার কাজ বিজেপি সরকার শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই নন্দীগ্রামে রেল পরিষেবা চালু হবে এবং প্রথম রেলে তিনি নিজেই নন্দীগ্রামবাসীকে নিয়ে যাত্রা করবেন।
