লেটেস্ট নিউজ

নন্দীগ্রামে বড়সড় ধস, ভোটের মুখে পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুলে পঞ্চায়েত সদস্য ও বুথ সভাপতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে বড়সড় ধাক্কা খেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে বিজেপির সংগঠনে ফাটল ধরিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন পঞ্চায়েত সদস্য তনুশ্রী দাস এবং স্থানীয় বুথ সভাপতি। এই দলবদলের ফলে মেদিনীপুরের রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের কালিচরণপুর ২৪৫ নম্বর বুথে পদ্ম প্রতীকে জিতেছিলেন তনুশ্রী দাস। ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই তিনি গেরুয়া শিবির ত্যাগ করে ঘাসফুলে নাম লেখালেন। শুধু তনুশ্রীই নন, ওই বুথের বিজেপি সভাপতিও তাঁর অনুগামীদের নিয়ে রাজ্যের শাসক দলে যোগ দিয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের হাত থেকে তাঁরা দলীয় পতাকা তুলে নেন।

খেজুরিতেও অস্বস্তিতে বিজেপি

বিপর্যয় কেবল নন্দীগ্রামেই সীমাবদ্ধ নেই। পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির কামারদা অঞ্চলেও বিজেপি শিবিরে বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন আগেই কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীর হাত ধরে যে ৩০টি সংখ্যালঘু পরিবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল, তারা পুনরায় তৃণমূলে ফিরে এসেছে। দলত্যাগীদের অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে তাঁদের বিজেপিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কোণঠাসা গেরুয়া শিবির

বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দুর গড়ে এই ভাঙন বিজেপির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এর আগে ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের দাপুটে নেতা চন্দন মণ্ডল এবং নন্দীগ্রামের জেলা কমিটির সদস্যসহ ৫০ জন বিজেপি কর্মী দল ছেড়েছিলেন। দলত্যাগীদের দাবি, বিজেপির অন্দরে দুর্নীতি এবং নেতাদের ব্যবহারে তাঁরা বীতশ্রদ্ধ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে খোদ বিধায়কের এলাকাতেই যদি সংগঠন এভাবে দুর্বল হতে থাকে, তবে ২০২৬-এর লড়াই বিজেপির জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। আপাতত এই ভাঙন নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন বিরোধী দলনেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *