নবান্ন নাকি ফের রাইটার্স, পালাবদলের আবহে প্রশাসনিক সদর দফতর নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা!

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। এতদিন রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত ‘নবান্ন’ কি আগামী দিনেও ক্ষমতা বলয়ের কেন্দ্রবিন্দু থাকবে, নাকি ফের ডালহৌসির ঐতিহাসিক ‘রাইটার্স বিল্ডিং’-এ ফিরবে রাজ্যের সচিবালয়—এই প্রশ্নই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অন্দরে ঘুরপাক খাচ্ছে।
ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতা
বিজেপির সম্ভাব্য বিপুল জয়ের প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক সদর দফতর নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। প্রশাসনের একটি অংশের মতে, নতুন সরকার কার্যভার গ্রহণ করার পর নবান্ন ছেড়ে পুনরায় রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সচিবালয় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাইটার্স বিল্ডিংই ছিল বাংলার শাসনের প্রাণকেন্দ্র। অন্যদিকে, ভবন পরিবর্তন না হলেও নবান্নের বর্তমান অবয়বে বদল আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলের নীল-সাদা রঙের পরিবর্তে নতুন সরকারের ভাবধারার প্রতিফলন হিসেবে ভবনের রং সাদা-গেরুয়া করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রশাসনিক পরিবর্তনের এই আবহে ইতিমধ্যেই নবান্নে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মূলত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ও দাপ্তরিক সামগ্রীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের সদর দফতর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কেবল প্রতীকি নয়, এর সাথে বিশাল সংখ্যক কর্মীবাহিনী এবং পরিকাঠামো স্থানান্তরের মতো জটিল প্রক্রিয়াও জড়িত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সদর দফতর বা ভবনের রং পরিবর্তন নতুন সরকারের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রশাসনিক স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টারই অংশ। তবে শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিংই ক্ষমতার অলিন্দ হয়ে ওঠে, নাকি নীল-সাদা আস্তরণ ঝেড়ে ফেলে নবান্নই নতুন রূপ পায়, তা সময় বলে দেবে।
