‘নম্বর গেম’-এর প্যাঁচে আপ! ৭ সাংসদের ইস্তফা কি নিছক গুঞ্জন নাকি ধেয়ে আসছে বড় ভাঙন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিয়ে আম আদমি পার্টির (আপ) ৭ জন রাজ্যসভা সদস্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন দলটির প্রবীণ নেতা রাঘব চাড্ডা। যদিও এই দলবদল নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। জনসমক্ষে আসা ছবিতে রাঘব চাড্ডা, অশোক মিত্তল ও সন্দীপ পাঠককে বিজেপিতে দেখা গেলেও, বাকি ৪ জন— হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রমজিৎ সাহানি ও স্বাতি মালিওয়ালকে নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। একমাত্র স্বাতি মালিওয়াল প্রকাশ্যে দল ছাড়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
আইনি মারপ্যাঁচ ও দুই-তৃতীয়াংশ ফর্মুলা
সংবিধানের দশম তফশিল অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দলত্যাগ করলে তার সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। তবে এর একটি বিশেষ দিক হলো ‘একীভূতকরণ’ বা মার্জার। যদি কোনো দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসাথে অন্য দলে যোগ দেন, তবে তাদের সদস্যপদ টিকে থাকে। আপ-এর রাজ্যসভা সদস্যদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৫-এ। রাঘব চাড্ডার দাবি, ৭ জন সদস্যই সই করেছেন যা দলবদল বিরোধী আইন থেকে তাদের সুরক্ষা দেবে। অন্যদিকে আপ এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রভাব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
এই গণ-দলত্যাগের ফলে দিল্লির শাসক দল আপ জাতীয় রাজনীতিতে বড় সংকটের মুখে পড়েছে। স্বাতি মালিওয়ালের তোলা দুর্নীতির অভিযোগ দলটির ভাবমূর্তিতে আঘাত হেনেছে। তবে দলটির জন্য এখনো আশা শেষ হয়ে যায়নি। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল রাজনৈতিক দলের সম্মতি ছাড়া শুধু সংসদীয় দলের এই দলবদল বৈধ কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যদি আপ একজন বা দুজন সদস্যকেও পুনরায় নিজেদের পক্ষে টানতে পারে, তবে দুই-তৃতীয়াংশের গাণিতিক সমীকরণ ভেঙে যাবে এবং বিদ্রোহীদের সদস্যপদ খারিজ হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।
এক ঝলকে
- আপ-এর ৭ জন রাজ্যসভা সদস্যের বিজেপিতে যোগদানের খবর নিয়ে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
- সদস্যপদ বাঁচাতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের (৫ জন) একসঙ্গে দলবদল করা বাধ্যতামূলক।
- আপ এই পদক্ষেপকে দলবদল বিরোধী আইনের লঙ্ঘন দাবি করে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
- রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ এই নাটকের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করবে।
