নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ড: মৃত্যুমিছিল বেড়ে ১১, শ্রীঘরে ডেকরেটার্স মালিক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নাজিরাবাদ: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও তিনটি দগ্ধ দেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৭ জন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে ডেকরেটার্স সংস্থার কর্ণধার গঙ্গাধর দাসকে মঙ্গলবার রাতে গড়িয়ার এলাচি মোড় থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার:
দমকল বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানা পুলিশ এই অভিযান চালায়। আজ অভিযুক্তকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দেহগুলি এতটাই বীভৎসভাবে ঝলসে গিয়েছে যে শনাক্ত করা আসাম্ভব হয়ে পড়েছে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হচ্ছে।
নেপথ্যে চরম গাফিলতি:
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডিজি রণবীর কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, ডেকরেটার্স গুদাম এবং সংলগ্ন মোমো কারখানা—কোনোটিতেই অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না, ছিল না কোনো ফায়ার লাইসেন্সও। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, ডেকরেটার্সের গুদামের ভেতরেই রান্নাবান্না ও মদ্যপান চলছিল। কোনো অসাবধানতা বা ইলেকট্রিক স্টোভ ফেটে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
ক্ষতিপূরণ ও প্রশাসনিক তৎপরতা:
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। গতকালই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম নাজিরাবাদে গিয়ে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
গ্রেপ্তারের পর গঙ্গাধর দাস অবশ্য দায় চাপিয়েছেন পাশের মোমো কারখানার ওপর। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুই তরফেই সুরক্ষাবিধির তোয়াক্কা করা হয়নি। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও তল্লাশি জারি রয়েছে।

