নাবালিকা রহস্যমৃত্যুতে তথ্যপ্রমাণ লোপাট, হাতকড়া ও হাফপ্যান্ট পরা অবস্থায় তৃণমূল নেতাকে বাজারে ঘোরাল পুলিশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা তথা বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি সুব্রত দত্ত (ওরফে গোপে)। রবিবার অপরাধের পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করতে তাঁকে হাফপ্যান্ট ও টি-শার্ট পরিয়ে পাত্রসায়র এলাকায় ঘোরায় পুলিশ।
ঘটনার নেপথ্যে কী ঘটেছে?
- ঘটনার সূত্রপাত: গত মার্চ মাসে বাঁকুড়ার পাত্রসায়রে এক নাবালিকার রহস্যমৃত্যু ঘটে। অভিযোগ, রোহিত মল্লিক ও তার মা রুম্পা মল্লিকের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ ধামাচাপা দেন সুব্রত দত্ত এবং তাঁর স্ত্রী, পাত্রসায়র পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী দত্ত।
- প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা: নাবালিকার পরিবারকে থানায় অভিযোগ পর্যন্ত জানাতে দেওয়া হয়নি। এমনকী ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ উঠে আসে।
- নতুন তদন্ত ও গ্রেপ্তার: চলতি বছরের জুলাই মাসে পাত্রসায়র থানার পুলিশ নতুন করে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। একে একে মূল অভিযুক্ত রোহিত, তার মা রুম্পা এবং তৃণমূল নেত্রী পূরবী দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের বড় পদক্ষেপ ও এলাকা সফর
ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন সুব্রত দত্ত। অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়ি ফিরলে গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের অংশ হিসেবে রবিবার সুব্রতকে পাত্রসায়র ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ একাধিক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে হাফপ্যান্ট পরা সুব্রতের সেই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এবং আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।
