নাবালিকাকে কুপিয়ে স্বর্ণালঙ্কার লুট, সাঁতার প্রশিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল শিয়ালদহ আদালত
কলকাতার চিৎপুর এলাকায় এক নাবালিকাকে খুনের চেষ্টা এবং চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত সাঁতার প্রশিক্ষক সন্দীপ সাউকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল শিয়ালদহ আদালত। ২০১৫ সালে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায়দান করে শনিবার বিচারক অনির্বাণ দাস এই সাজা ঘোষণা করেন। শুক্রবারই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আদালতের এই রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে আক্রান্ত নাবালিকার পরিবার।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ দুপুরে নাবালিকা বাড়িতে একা থাকার সুযোগে প্রতিবেশী সন্দীপ সাউ সেখানে প্রবেশ করে। আলমারি থেকে টাকা ও গয়না চুরির সময় বাধা দিলে সে গামছা দিয়ে নাবালিকার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চম্পট দেয়। পরে প্রতিবেশীরা গুরুতর জখম অবস্থায় ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত সন্দীপকে গ্রেফতার করে এবং শিয়ালদহ আদালতে মামলা শুরু হয়। শুনানিতে মোট ২২ জন সাক্ষীর বয়ান গ্রহণ করা হয়, যার ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই কঠোর সাজা প্রদান করে। পেশায় সাঁতার প্রশিক্ষক হয়েও পরিচিত এক নাবালিকার ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, যা দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর আজ আইনি পরিণতির দিকে পৌঁছাল।

