নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার জেরে রণক্ষেত্র বেলডাঙা, গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যুতে গ্রেফতার ৪ – এবেলা

নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার জেরে রণক্ষেত্র বেলডাঙা, গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যুতে গ্রেফতার ৪ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার ফতেনগর গ্রামে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে এক প্রৌঢ়কে পিটিয়ে খুনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মদ্যপ অবস্থায় এক নাবালিকাকে নির্যাতনের চেষ্টার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। গণপিটুনির জেরে গুরুতর জখম ওই প্রৌঢ়কে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও গণপিটুনি

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত প্রৌঢ় মদ্যপ অবস্থায় ওই নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার চেষ্টা করে। ঘটনাটি অভিযুক্তের স্ত্রীর নজরে এলে তিনি তৎক্ষণাৎ নাবালিকাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। তবে এই খবরটি গ্রামে জানাজানি হতেই মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত প্রৌঢ়কে ধরে ব্যাপক মারধর শুরু করে। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বেলডাঙা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশি পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই আইন অমান্য ও হিংসাত্মক ঘটনার প্রেক্ষিতে বেলডাঙা থানার পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার রাতেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বহরমপুর জেলা আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হলে বিচারক পাঁচ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেন। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং বাকি পলাতকদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

আইনজীবী ও সমাজকর্মীদের মতে, এই ধরণের ঘটনা সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। যৌন হেনস্থার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থার ওপর ভরসা না রেখে গণআদালত বসানোর এই মানসিকতা ভবিষ্যতে আইন-শৃঙ্খলার জন্য বড়সড় সংকট তৈরি করার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে সমগ্র ফতেনগর গ্রাম থমথমে অবস্থায় রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *