নামের শুরুতে ‘র, ক, স, হ, ম’? বছরের শেষ সূর্যগ্রহণে বিশেষ সতর্কতার পরামর্শ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হিন্দু ধর্মে শ্রাবণ মাসকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। আগামী ১২ অগস্ট সংগঠিত হতে চলেছে বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ। জ্যোতিষ শাস্ত্রে সূর্যগ্রহণকে রাহু ও কেতুর প্রভাবযুক্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু এই গ্রহণের সময় কি মানুষের লাকি নম্বর বদলে যায়? কিংবা নামের প্রথম অক্ষরের ওপর রাহু-কেতুর প্রভাব ঠিক কতটা পড়ে? আসুন জেনে নেওয়া যাক সংখ্যাতত্ত্ব ও জ্যোতিষশাস্ত্র কী বলছে।
১. গ্রহণের সময় কি লাকি নম্বর বা ভাগ্যবান সংখ্যা বদলে যায়? সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির মূলাঙ্ক ও ভাগ্যাঙ্ক সম্পূর্ণ নির্ভর করে তাঁর জন্মতারিখের ওপর। ফলে সূর্যগ্রহণের কারণে লাকি নম্বর বদলে যাওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক বা শাস্ত্রীয় ভিত্তি নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গ্রহণের সময় মানুষের চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এ সময় মাথা ঠান্ডা রাখা ও ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখা জরুরি।
২. নামের প্রথম অক্ষরে কি গ্রহণের প্রভাব থাকে? জ্যোতিষশাস্ত্রে নামের প্রথম অক্ষরের সঙ্গে জাতক-জাতিকার রাশির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই গ্রহণের গ্রহগত অবস্থানের কারণে বিভিন্ন অক্ষরের নামের ওপর এর প্রভাব ভিন্নভাবে দেখা যেতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট একটি অক্ষরের ওপরই যে রাহু-কেতুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে— এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।
৩. যে ৫টি অক্ষরের নামের ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন সংখ্যাতত্ত্ব ও জ্যোতিষশাস্ত্রের কিছু হিসাব অনুযায়ী, যাদের নাম ‘র’, ‘ক’, ‘স’, ‘হ’ এবং ‘ম’ অক্ষর দিয়ে শুরু, গ্রহণের সময় তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
- কোনো বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো।
- কথাবাত্রায় সংযম রাখা এবং মেজাজ ধরে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
- শুভ ফল পেতে মহাদেবের আরাধনা করা উচিত।
তবে মনে রাখবেন, গ্রহণের চূড়ান্ত প্রভাব সবসময় ব্যক্তির নিজস্ব জন্মকুণ্ডলী বা কোষ্ঠীর ওপরই নির্ভর করে।
৪. সূর্যগ্রহণের দিন শুভ ফল পেতে কী করবেন? ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রহণের সময় রাহু-কেতুর প্রভাব নিষ্ক্রিয় করতে এবং ঘরে শুভ শক্তি বজায় রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত:
- জপ করুন মহাদেবের ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র।
- ইষ্টদেবতা বা শিবের ধ্যানে মন দিন।
- পরিবারে ঝগড়া-ঝাঁটি, তর্ক ও রাগ এড়িয়ে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখুন।
- সাধ্যমতো দুস্থ ও অসহায় মানুষকে দান বা সাহায্য করুন।
