নিউ মার্কেটে বুলডোজার তাণ্ডব! ধর্মীয় স্লোগান ও দোকান ভাঙচুর নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী উত্তেজনার মধ্যেই এবার কলকাতার কেন্দ্রস্থল নিউ মার্কেট এলাকায় হাড়হিম করা এক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠল। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছেন যে, গেরুয়া শিবিরের একদল সমর্থক ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে এলাকায় বুলডোজার চালিয়ে দোকানপাট ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিলোত্তমার বুকেই ‘বুলডোজার রাজনীতি’র প্রবেশ ঘটল কি না, তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বুলডোজার তাণ্ডব ও ধ্বংসলীলা
সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, নিউ মার্কেট এলাকায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর উন্মত্ত সমর্থকরা হাতে বুলডোজার নিয়ে চড়াও হয়। ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, বুলডোজারের আঘাতে বেশ কিছু দোকান ও তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ইউনিয়ন অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভাঙচুরের সময় জয়ধ্বনি ও ধর্মীয় স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল, যার ফলে গোটা নিউ মার্কেট চত্বরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ব্যবসায়ী ও পথচারীরা প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে ব্যস্ততম এই বাজার এলাকার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সাংসদের অভিযোগ, যখন প্রকাশ্য দিবালোকে কলকাতার বুকে বুলডোজার দিয়ে দোকান ভাঙা হচ্ছিল, তখন পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই এই ধ্বংসলীলা চলেছে বলে তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ। সংবাদমাধ্যমের একাংশ এই ঘটনার গুরুত্ব সঠিকভাবে তুলে ধরছে না বলেও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিজয়ী শিবিরের এই ‘গুন্ডাগিরি’ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পাল্টা দাবি ও আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ
তবে স্থানীয়দের একাংশ এবং বিরোধী শিবিরের দাবি, ভেঙে দেওয়া নির্মাণটি বেআইনিভাবে ফুটপাত দখল করে তৈরি করা হয়েছিল। এই দাবি ও পাল্টা দাবির মাঝে নিউ মার্কেট এলাকায় বর্তমানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী জয়ের উল্লাসে যদি এভাবে বুলডোজার সংস্কৃতির আমদানি হয়, তবে তা ভবিষ্যতে বড়সড় সাম্প্রদায়িক বা রাজনৈতিক সংঘর্ষের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এই ঘটনার জেরে কেবল নিউ মার্কেট নয়, শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাতেও এখন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
