নিখোঁজ নয়, মায়ের হাতেই খুন আড়াই বছরের শিশু: ছত্তিশগড়ে প্রকাশ্যে এল এক হাড়হিম করা ষড়যন্ত্র

ছত্তিশগড়ের রায়গড় জেলায় নিজের আড়াই বছরের সন্তানকে পাথর দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে এক মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১৯ এপ্রিল কাুপুর পাহাড়ি অঞ্চলের গভীর খাদ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক তদন্ত ও জেরার মুখে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নারী।
হত্যাকাণ্ডের নৃশংস প্রেক্ষাপট
গত ১৬ এপ্রিল সকালে শিশুটির বাবা কাজে যাওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিখোঁজ ছিলেন। বড় মেয়ে বাড়িতে ফিরে এলেও মা ও ছোট ছেলের কোনো হদিস মিলছিল না। পরবর্তীতে ১৮ এপ্রিল রাতে রানীগৌয়া পাহাড়ের কাছে রক্তের দাগ দেখে তল্লাশি চালালে গভীর খাদে শিশু অনুজ মাঝওয়ারের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহের পাশ থেকেই উদ্ধার করা হয় রক্তমাখা পাথর, যা দিয়ে শিশুটির মাথায় আঘাত করা হয়েছিল।
ক্রোধ ও ক্লান্তির বলি শৈশব
পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত নারী জানিয়েছেন, দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে বড় মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ছেলেকে নিয়ে পাহাড়ি পথে হাঁটা শুরু করেন। দীর্ঘ পথ চলায় ক্লান্তি এবং প্রচণ্ড রাগের মাথায় তিনি প্রথমে শিশুটিকে মাটিতে আছাড় মারেন এবং পরে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। অপরাধ আড়াল করতে শিশুটির মরদেহ গভীর খাদে ফেলে দিয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে অপহরণের মিথ্যা গল্প ফেঁদেছিলেন।
রায়গড় পুলিশ সুপার শশী মোহন সিং জানিয়েছেন, এই জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই বিচার বিভাগীয় রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার ফলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এক ঝলকে
- ছত্তিশগড়ের রায়গড়ে আড়াই বছরের শিশুকে তার নিজের মা পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছেন।
- গত ১৬ এপ্রিল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল এবং ১৮ এপ্রিল রাতে পাহাড়ের খাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
- পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করে ওই নারী জানিয়েছেন, দীর্ঘ পথ চলার ক্লান্তি ও রাগের বশবর্তী হয়ে তিনি এই কাজ করেছেন।
- অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বিচার বিভাগীয় রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যপ্রমাণ জব্দ করেছে পুলিশ।
