নিখোঁজ ৩০০০ অন্তঃসত্ত্বা নারী, বাড়ছে কন্যা ভ্রূণহত্যার ভয়াবহ শঙ্কা! – এবেলা

নিখোঁজ ৩০০০ অন্তঃসত্ত্বা নারী, বাড়ছে কন্যা ভ্রূণহত্যার ভয়াবহ শঙ্কা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কর্নাটকের ইয়াদাগিরি জেলায় নথিবদ্ধ কয়েক হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারীর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৩০ হাজারের বেশি গর্ভবতী নারী নিবন্ধিত থাকলেও বিপুল সংখ্যক নারীর প্রসব সংক্রান্ত কোনো তথ্য সরকারি রেকর্ডে নেই। সম্প্রতি ‘কন্নড় প্রভা’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যা গত এক বছরে সহস্রাধিক অবৈধ কন্যা ভ্রূণহত্যার ভয়াবহ আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে।

রহস্যজনক পরিসংখ্যান ও প্রশাসনের উদ্বেগ

২০২৪-২৫ অর্থবছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলায় ৩১,৪৩৫ জন গর্ভবতী নারী নিবন্ধিত হলেও প্রসব, মৃত্যু বা বৈধ গর্ভপাত মিলিয়ে মোট হিসাব পাওয়া গেছে ২৮,৩০৮ জনের। অর্থাৎ, বাকি ৩,১২৭ জন নারী ও তাদের অনাগত সন্তানদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা স্বাস্থ্য দপ্তরের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই বিশাল গরমিল দেখে ধারণা করা হচ্ছে, লিঙ্গ নির্ধারণের পর মেয়ে সন্তান জেনে গোপনে গর্ভপাত করানো হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব হর্ষ গুপ্তা ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

নথি জালিয়াতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা

তদন্ত কমিটি সন্দেহ করছে যে, মাঠপর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য ভুয়া ‘তাই কার্ড’ বা মাতৃত্বকালীন কার্ড তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভ্রূণের লিঙ্গ শনাক্ত করার পর অবৈধ ক্লিনিকের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে, যার কোনো হিসাব সরকারি খাতায় থাকছে না। ইয়াদাগিরি জেলার কালেক্টর হর্ষাল ভয়ার জানিয়েছেন, ভুয়া ডাক্তার ও অবৈধ ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এক ঝলকে

  • ইয়াদাগিরি জেলায় ৩,১২৭ জন নিবন্ধিত অন্তঃসত্ত্বা নারীর কোনো হদিস পাচ্ছে না স্বাস্থ্য দপ্তর।
  • গত এক বছরে এক হাজারের বেশি অবৈধ কন্যা ভ্রূণহত্যার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
  • সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে ৬৫২টি গর্ভপাতের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
  • ঘটনার তদন্তে রাজ্য পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং জাল মাতৃত্বকালীন কার্ড তৈরির বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *