নিট ইউজি ২০২৬ প্রশ্ন ফাঁস, এবার সিবিআইয়ের জালে এনটিএ প্যানেলের সদস্য মনীষা মানধারে! – এবেলা

নিট ইউজি ২০২৬ প্রশ্ন ফাঁস, এবার সিবিআইয়ের জালে এনটিএ প্যানেলের সদস্য মনীষা মানধারে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়লেন প্রশ্নপত্র তৈরি কমিটির সদস্য তথা বোটানি অধ্যাপক মনীষা মানধারে। শনিবার দিল্লিতে সিবিআই সদর দফতরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুণের মডার্ন কলেজ অফ Arts, Science and Commerce-এর এই শিক্ষিকাকে প্রশ্ন ফাঁসের অন্যতম “মাস্টারমাইন্ড” হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিবিআই। এই নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই জালিয়াতি মামলায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করল তদন্তকারী সংস্থা।

প্রশ্ন ফাঁসের উৎস ও সিবিআই অভিযান

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ধৃত মনীষা মানধারে গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-এর নিট প্রশ্নপত্র তৈরি কমিটির সাথে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। বোটানি ও জুওলজি বিষয়ের প্রশ্নপত্রের ওপর তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও অ্যাক্সেস ছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তিনি এপ্রিল ২০২৬-এ পুণের কিছু গোপন কোচিং ক্লাসের মাধ্যমে নির্বাচিত পরীক্ষার্থীদের কাছে জীববিজ্ঞানের প্রশ্ন ফাঁস করেন। এর আগে রসায়নের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক পিভি কুলকার্নি এবং অন্য অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই মনীষার নাম জানতে পারে সিবিআই।

গোপন কোচিং ও লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন

সিবিআইয়ের দাবি, মনীষা মানধারে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন এবং সেগুলোর উত্তর পরীক্ষার্থীদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝিয়ে দিতেন এবং এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি হিসেবে লক্ষ লক্ষ টাকা নিতেন। এই পুরো চক্রটি চলত পুণের অপর এক অভিযুক্ত মনীষা ওয়াগমারের সাহায্যে, যিনি শিক্ষার্থীদের এই গোপন ক্লাসের জন্য সংগঠিত করতেন। ওয়াগমারে-কে গত ১৪ মে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ৩ মে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সাথে মনীষার ক্লাসে করানো প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। ধৃত কুলকার্নি এবং ওয়াগমারে-কে শনিবার দিল্লির আদালতে হাজির করে ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।

তদন্তের প্রভাব ও দেশজুড়ে ধরপাকড়

এই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা দেশের চিকিৎসা শিক্ষায় প্রবেশিকা পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও এনটিএ-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সিবিআই মনে করছে, এর পেছনে একটি সুসংগঠিত বড় চক্র কাজ করছে, যার শিকড় অনেক গভীরে। বৃহত্তর এই ষড়যন্ত্র উন্মোচন এবং অর্থ লেনদেনের উৎস খুঁজতে ধৃতদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে গিয়ে জেরা করা হতে পারে। পুণে, দিল্লি, জয়পুর এবং গুরুগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন শহর জুড়ে সিবিআইয়ের এই চিরুনি তল্লাশি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *