নিট প্রশ্নফাঁস করেই কোটিপতি! রাজস্থানের এক পরিবারের কীর্তিতে চোখ কপালে সিবিআইয়ের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলতি বছরের নিট (NEET UG) প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের তদন্তে নেমে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে মেলালেন সিবিআই আধিকারিকরা। এবার তদন্তকারীদের নজরে রাজস্থানের সিকরের এক পরিবার, যারা গত কয়েক বছর ধরে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, সিকরের এই চক্র অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং দেশের একাধিক রাজ্যে এর জাল বিস্তৃত ছিল।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের দাবি, মঙ্গিলাল বিবল ও তাঁর ভাই দীনেশ বিবল দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁরা শুধু এবারই নয়, অতীতেও নিজেদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আগেভাগেই প্রশ্নপত্র জোগাড় করতেন। পরবর্তীতে সেই প্রশ্ন মোটা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন নামী কোচিং সেন্টারের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হতো। রাজস্থান পুলিশ প্রথমে এই দুই ভাইকে হেফাজতে নিলেও, বর্তমানে সিবিআই তাঁদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
প্রশ্ন ছড়াতে ৬৫ লাখ টাকার লেনদেন
তদন্তে আরও জানা গেছে, বিবল পরিবারের পাঁচ সন্তানই পরীক্ষা শুরুর আগেই নিটের প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে গিয়েছিল। মঙ্গিলালের ছেলে বিকাস বিবল, যিনি বর্তমানে সাওয়াই মাধোপুর মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস পড়ছেন, তিনিও এই লিক হওয়া প্রশ্নপত্র অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের কাছে চড়া দামে বিক্রির কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই প্রশ্নপত্র কেনা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকার বিপুল লেনদেন হয়েছে।
মহারাষ্ট্র থেকে হরিয়ানা হয়ে রাজস্থান
এই চক্রের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা একে একটি সুসংগঠিত ‘ফরোয়ার্ড-টু-ফরোয়ার্ড’ নেটওয়ার্ক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। জানা গেছে, প্রশ্নপত্রটি প্রথম ফাঁস হয় মহারাষ্ট্রের একটি চক্রের মাধ্যমে। সেখান থেকে ধৃত শুভম খৈর্ণার (বিএএমএস তৃতীয় বর্ষের ছাত্র), ধনঞ্জয় লোখান্ডে ও মণীষা ওয়াঘমারে নামের তিন ব্যক্তি প্রশ্নটি সিকরে পাঠরত হরিয়ানার ছাত্র যশ যাদবের হাতে তুলে দেন। যশ যাদবের মাধ্যমেই শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন পৌঁছায় রাজস্থানের বিবল পরিবারের কাছে।
সিকরের কোচিং সেন্টারগুলোর পারস্পরিক তীব্র ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার কারণেই এই বড়সড় জালিয়াতি প্রকাশ্যে চলে আসে। দীনেশ বিবালের ছেলে ঋষি প্রশ্নপত্রটি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এরপরই একটি প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টার ও পিজি অপারেটর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এই ঘটনার জেরে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক ইতিমধ্যেই নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। সিবিআই আধিকারিকদের অনুমান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে চলা গভীর শিক্ষামাফিয়া চক্রের অংশ। এই চক্রের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও রাজস্থান জুড়ে সমান্তরাল তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
