নিরাময় নয় বরং আগাম সতর্কতায় মুক্তি! স্তন ক্যানসার শনাক্তে কেন জরুরি ম্যামোগ্রাম? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
স্তন ক্যানসার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নারীদের স্বাস্থ্যের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি ধরা পড়ে না, কারণ হাতের স্পর্শে সব সময় টিউমার বোঝা সম্ভব হয় না। চিকিৎসকদের মতে, স্তনে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি, স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক ক্ষরণ কিংবা চামড়ার রঙের পরিবর্তন দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে ম্যামোগ্রাম পরীক্ষাটি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত স্ক্রিনিং
ম্যামোগ্রাম হলো স্তনের এক বিশেষ ধরনের এক্স-রে, যা টিস্যুর ভেতরে লুকিয়ে থাকা অতি ক্ষুদ্র পরিবর্তনগুলোও শনাক্ত করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, ৩০ বছর বয়সের পর থেকেই নারীদের নিয়মিত ক্যানসার স্ক্রিনিং টেস্ট বা ম্যামোগ্রাম করানো উচিত। আগেভাগে রোগ ধরা পড়লে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি যেমন কমে, তেমনি জটিল অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি কেবল উপসর্গ থাকলেই নয়, বরং সুস্থ অবস্থায় রুটিন চেকআপ হিসেবেও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাথমিক শনাক্তকরণের প্রভাব
সঠিক সময়ে ম্যামোগ্রাম করার ফলে ক্যানসারের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়। এর ফলে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা যায়। সমাজ ও পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এই পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসারের মতো মারণব্যাধির বিরুদ্ধে জয়লাভ করা অনেক সহজ হয়ে উঠবে। তাই কোনো শারীরিক পরিবর্তনের অপেক্ষা না করে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে এই পরীক্ষাটি করিয়ে নেওয়া আগামীর সুরক্ষায় বড় বিনিয়োগ।
এক ঝলকে
- স্তনের ভেতরে থাকা অতি ক্ষুদ্র বা অদৃশ্য টিউমার শনাক্ত করতে ম্যামোগ্রাম অপরিহার্য।
- চিকিৎসকদের মতে, ৩০ বছর বয়সের পর নিয়মিত ব্যবধানে স্ক্রিনিং টেস্ট করানো জরুরি।
- অস্বাভাবিক ক্ষরণ বা ব্যথা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।
- প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ক্যানসারের মারণঝুঁকি কমিয়ে জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে।
