নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে তৃণমূল, ৪০–৫০টি আসনে পিটিশন দাখিলের প্রস্তুতি

নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে তৃণমূল, ৪০–৫০টি আসনে পিটিশন দাখিলের প্রস্তুতি

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি— এই অভিযোগ তুলে এবার আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গণনার সময় কারচুপি এবং তৃণমূলের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি আসনে ‘ইলেকশন পিটিশন’ দাখিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জোড়াফুল শিবির। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি চলাকালীন আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। শীর্ষ আদালত এই আবেদনের প্রেক্ষিতে ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন (IA) করার নির্দেশ দিয়েছে।

গণনায় কারচুপি ও এজেন্টদের ওপর হামলার অভিযোগ

তৃণমূলের দাবি, প্রায় ৮০টি আসনে তাদের জয় নিশ্চিত থাকলেও অন্তত ১০০টি আসনে ষড়যন্ত্র করে তাদের হারানো হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, যে সমস্ত কেন্দ্রে তৃণমূল ৪–৫ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল, সেখানে তাঁদের এজেন্টদের মারধর করে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যন্ত হেনস্থা করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, গণনাকেন্দ্রের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ বাইরে না দেখানোয় স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রগুলোতে গণনার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে কারচুপি করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

তদন্ত ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি

ভোটের ব্যবধান এবং প্রকৃত ভোটারের সংখ্যার মধ্যে অসামঞ্জস্যের দিকটি আইনি লড়াইয়ে প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে তৃণমূল। ১৫ বছর পর ক্ষমতাচ্যুত হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল ফের লড়াই করে ফিরে আসবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিজেপি সরকার আগের সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলো চালু রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনহিতকর কাজেরই স্বীকৃতি। একইসঙ্গে বাম ও আইএসএফ-এর সঙ্গে বিজেপির গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলে বিরোধীদেরও নিশানা করেছেন তিনি। আগামী দিনে এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ভোটের ফলাফলে বড় কোনো মোড় আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *