নেতাজির চিতাভস্ম কি ফিরবে দেশে? কন্যা অনিতার আবেদনে মোদী সরকারের জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিজস্ব সংবাদদাতা: টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে রাখা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ‘চিতাভস্ম’ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হলো। লক্ষ লক্ষ ভারতবাসীর এই চিরন্তন দাবির সপক্ষে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন নেতাজিতনয়া অনিতা বোস ফাফ। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এবার কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান ও বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস জারি করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। নেতাজি কন্যার পক্ষে আদালতে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করেন। যুক্তি শোনার পর বেঞ্চ কেন্দ্রের কাছে জবাব তলব করে।
অনিতা বোস ফাফের স্পষ্ট বক্তব্য:
জাপানের রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত চিতাভস্ম তাঁর পিতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুরই। তাই আর দেরি না করে পূর্ণ সামরিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেই চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হোক।
নেতাজির অন্তর্ধান ও রেনকোজি মন্দির বিতর্ক
১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট তাইওয়ানের তাইপেইয়ে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর খবর সামনে আসে। পরবর্তীকালে তাঁর দেহাবশেষ টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষণ করে রাখা হয় বলে ভারত সরকারের তথ্যে জানা যায়। তবে নেতাজির মৃত্যু ও অন্তর্ধান ঘিরে দশকের পর দশক ধরে নানা রহস্য ও বিতর্ক রয়ে গেছে।
কমিশন ও তদন্ত: নেতাজির মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে গঠিত শাহনওয়াজ কমিটি এবং বিচারপতি জি ডি খোসলা কমিশন বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর তত্ত্ব সমর্থন করলেও, বিচারপতি মুখার্জি কমিশন তা খারিজ করে দেয়। (যদিও তৎকালীন সরকার মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট গ্রহণ করেনি)।
ডিএনএ টেস্টের দাবি: রেনকোজি মন্দিরে থাকা চিতাভস্ম সত্য়িই নেতাজির কি না, তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার দাবি জানিয়ে আসছেন গবেষকদের একাংশ।
এই সমস্ত বিতর্ক ও জল্পনার মাঝেই সুভাষ-কন্যার এই আইনি পদক্ষেপ নেতাজির শেষাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে নতুন এক গতি দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মহল।
