নেতাদের প্রতি চরম অনাস্থা আর কতদিন? বাংলার ভোটে নীরব প্রতিবাদের হাতিয়ার এখন নোটা – এবেলা

নেতাদের প্রতি চরম অনাস্থা আর কতদিন? বাংলার ভোটে নীরব প্রতিবাদের হাতিয়ার এখন নোটা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলার রাজনৈতিক আঙিনায় নির্বাচন মানেই উৎসব, কিন্তু সেই উৎসবের আমেজে এবার এক নতুন উদ্বেগের ছায়া দেখছে রাজনৈতিক দলগুলো। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে প্রার্থীদের প্রতি চরম অনাস্থা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি আর দলবদলের হিড়িক দেখে অনেক ভোটারই ইভিএম-এর শেষ বোতাম ‘নোটা’ (NOTA) বা ‘ওপরের কেউই নয়’ বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি হয়ে উঠেছে নীরব প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার।

রেকর্ড ভাঙছে অনাস্থার পরিসংখ্যান

পশ্চিমবঙ্গের বিগত নির্বাচনগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, ভোটারদের এই বিমুখতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৬ লক্ষ ৪৬ হাজার মানুষ কোনো প্রার্থীকেই যোগ্য মনে করেননি, যা মোট ভোটের ১.০৮ শতাংশ। মহেশতলা, হাওড়া বা টালিগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার ভোটার নোটায় সায় দিয়েছিলেন। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও অনেক কেন্দ্রে নোটা পোলিং ১৫ থেকে ২৪ হাজারের ঘর ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা সরাসরি জনমতের এক অস্বস্তিকর বহিঃপ্রকাশ।

নীরব প্রতিবাদের প্রভাব ও কারণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন না, বরং ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ক্ষোভ নথিবদ্ধ করছেন। যোগ্য প্রার্থীর অভাব এবং জনসম্পৃক্ততাহীন রাজনীতিই মানুষকে এই পথে ঠেলে দিচ্ছে। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় বিপদ সংকেত। যদি কোনো আসনে জয়ের ব্যবধান নোটা ভোটের চেয়ে কম হয়, তবে তা সরাসরি জনম্যান্ডেটের নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ফলে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইভিএম-এর এই শেষ বোতামটি।

এক ঝলকে

  • বাংলার ভোটারদের একাংশ প্রার্থীদের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে ‘নোটা’ বোতামকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
  • ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ৬ লক্ষ ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ নোটায় ভোট দিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন।
  • প্রার্থী বাছাইয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা এবং আদর্শহীন রাজনীতিই ভোটারদের এই অনাস্থার মূল কারণ।
  • ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বেশ কিছু স্পর্শকাতর কেন্দ্রে ১৫ থেকে ২৪ হাজার পর্যন্ত নোটা ভোট পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *