পঞ্চাশেও শরীর জুড়ে তারুণ্য ধরে রাখার জাদুকরী মন্ত্র জানালেন শিল্পা শেট্টি – এবেলা

পঞ্চাশেও শরীর জুড়ে তারুণ্য ধরে রাখার জাদুকরী মন্ত্র জানালেন শিল্পা শেট্টি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পঞ্চাশ বছর বয়সেও বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টি কুন্দ্রার ফিটনেস, অদম্য কর্মক্ষমতা এবং প্রাণশক্তি সমসাময়িক অনেকের কাছেই এক পরম অনুপ্রেরণা। একা হাতে এত কাজ সামলানোর পেছনে কোনো জটিল নিয়ম নয়, বরং যাপনচিত্রের অত্যন্ত সাধারণ ও শৃঙ্খলিত কিছু অভ্যাস কাজ করে বলে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ঘুম, সময়মতো শারীরচর্চা, সাদামাঠা খাবার এবং পরিমিত বিশ্রামই তার চিরতারুণ্যের মূল ভিত্তি।

ভোরবেলাতেই দিনের সেরা প্রস্তুতি

শিল্পার মতে, দিনের শুরুটা সঠিক নিয়মে হলে গোটা দিন অনেক বেশি ছন্দে কাটে। বর্তমানে তিনি সকাল পৌনে ৭টায় ঘুম থেকে উঠলেও, তার নতুন লক্ষ্য ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে দিন শুরু করা। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সময়টুকুকে তিনি দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মনোযোগ দিয়ে কাজ করার উপযুক্ত সময় মনে করেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি দিনের সব প্রধান পরিকল্পনা সেরে ফেলেন। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট এক ঘণ্টা তিনি কঠোরভাবে শারীরচর্চার জন্য বরাদ্দ রাখেন। এই সময়ে তার ম্যানেজারদেরও ফোন করতে নিষেধ করা থাকে। সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কেবল কাজের জন্য তাকে পাওয়া যায়। এরপর রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে বাইরের জগৎ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাত ১০টার মধ্যে তিনি ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন।

শৃঙ্খলিত জীবনযাত্রার বহুমাত্রিক প্রভাব

ঘড়ির কাঁটা মেনে চলার এই অভ্যাসের ফলে মানবদেহে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা ও নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় হয় এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকে। একই সময়ে প্রতিদিনের শরীরচর্চা মনের প্রফুল্লতা বাড়ায় এবং এটি একসময়ে অভ্যাসে পরিণত হয়। এ ছাড়া শিল্পার ফিটনেসের আরেকটি বড় কারণ হলো অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা বাহারি খাবারের বদলে ঘরোয়া সাদামাঠা রান্নাকে প্রাধান্য দেওয়া।

এই ধরনের সুশৃঙ্খল রুটিন অনুসরণের ফলে মানুষের শরীরে খাবার হজম ভালো হয়, রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। সেই সঙ্গে শরীরের জৈব ঘড়ির ছন্দ ঠিক থাকার কারণে মানসিক চাপ অনেকাংশে কমে যায়। সুস্থ থাকতে দীর্ঘ সময় কঠিন পরিশ্রম বা কৃচ্ছ্রসাধনের প্রয়োজন নেই, বরং সময় মতো ঘুম, সাধারণ খাবার ও নিজের জন্য কিছুটা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখাই দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থতার আসল চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *