পণের দাবিতে মৃত্যু, সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনায় কাঁপল সমাজ – এবেলা

পণের দাবিতে মৃত্যু, সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনায় কাঁপল সমাজ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ছত্তীসগড়ের একটি পণ-মৃত্যুর মামলায় রায় দিতে গিয়ে পণপ্রথা এবং বধূ নির্যাতনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিয়ের পর নববধূ এবং তাঁর বাপের বাড়ির লোকজনকে হেনস্থা করা ও তাঁদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করার মানসিকতাকে সুপ্রিম কোর্ট তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, স্ত্রী এবং তাঁর পরিবারকে এভাবে নিংড়ে নেওয়া ও অপমান করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের প্রশ্ন, ছেলেরা কি কেবল মেয়েদের পরিবারকে অপমান করার জন্যই বিয়ে করে? আদালতের এই কঠোর পর্যবেক্ষণ দেশের সামগ্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য একটি বড় বার্তা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আদালতের রায়

মামলাটির সূত্রপাত ২০১০ সালে ছত্তীসগড়ে, যেখানে বিয়ের সাত বছরের মধ্যে শ্বশুরবাড়িতে এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। নগদ টাকা ও গাড়ির দাবিতে ওই তরুণীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। নিম্ন আদালত ও ছত্তীসগড় হাইকোর্ট এই ঘটনায় স্বামীর পরিবারের সদস্যদের পণ-মৃত্যু ও বধূ নির্যাতনের ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সম্প্রতি দোষী সাব্যস্ত এক সদস্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত তাঁর আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয় এবং পূর্ববর্তী সাজা বহাল রাখে।

সামাজিক প্রভাব ও কঠোর বার্তা

সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ দেশের বিচারব্যবস্থা ও সমাজে এক দূরগামী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পণ আদায়ের জন্য আইনি ফাঁকফোকর খোঁজার চেষ্টা করে পার পাওয়া যাবে না। শিক্ষিত সমাজেও যেভাবে পণের দাবিতে অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিচারপতিরা। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলো যে, বধূ নির্যাতন ও পণপ্রথার মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে আইন আগামী দিনে আরও কঠোর অবস্থান নেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *