পতন হলো শেষ দুর্গেরও: বহরমপুরে পরাস্ত অধীর চৌধুরী, পদ্ম ফোটালেন সুব্রত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার রাজনীতির এক দীর্ঘকালীন মিথের অবসান ঘটল। তিন দশক ধরে যে জেলা ও কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর রাজনৈতিক সাম্রাজ্য আবর্তিত হতো, সেই বহরমপুর বিধানসভাতেও শেষ রক্ষা হলো না। লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিজের খাসতালুকেও মুখ থুবড়ে পড়লেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। তাঁকে পরাজিত করে জয়ের ধারা বজায় রাখলেন বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক সুব্রত (কাঞ্চন) মৈত্র। একসময়ের অপ্রতিরোধ্য ‘রবিনহুড’ ইমেজকে ম্লান করে বহরমপুর বিধানসভায় দ্বিতীয় স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হলো অধীরকে।
পরাজয়ের নেপথ্য সমীকরণ
তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে লোকসভায় হারের পর অধীর চৌধুরীর কাছে এই নির্বাচন ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে থাকলেও, লোকসভার ফলের নিরিখে এখানে ‘লিড’ ছিল অধীরের। কিন্তু উপনির্বাচনের ফলে দেখা যাচ্ছে, সেই লিড ধরে রাখা তো দূরস্ত, বরং বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে তাঁকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল ও বিজেপির দ্বিমুখী মেরুকরণের চাপে কংগ্রেসের চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নেমেছে। একদিকে তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের আক্রমণাত্মক প্রচার এবং অন্যদিকে সুব্রত মৈত্রের নিরুত্তাপ অথচ নিপুণ জনসংযোগ— এই সাঁড়াশি চাপের মুখেই ভেঙে পড়েছে কংগ্রেসের ‘শেষ দুর্গ’।
মুর্শিদাবাদে ক্ষয়িষ্ণু কংগ্রেস ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
১৯৯৯ সাল থেকে বহরমপুরের যে জয়যাত্রার সূচনা অধীর করেছিলেন, ২০২৪-এর এই ফল তার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুকে নির্দেশ করছে। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোট থেকেই মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেসের একাধিপত্যে ফাটল ধরাতে শুরু করেছিল তৃণমূল। সেই ভাঙন রুখতে বিধানসভা ভোটে অধীর নিজেই প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু ফলাফল বলছে ভোটারদের আস্থা অর্জনে তিনি ব্যর্থ। এই পরাজয়ের ফলে মুর্শিদাবাদ তথা রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা বড়সড় সংকটের মুখে পড়ল। এর প্রভাব শুধুমাত্র জেলার সংগঠনের ওপর নয়, বরং জাতীয় স্তরেও অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক গুরুত্বের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই জয় মুর্শিদাবাদে বিজেপির উত্থানকে আরও মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দিল।
