পরচুলা থেকে বিউটি পার্লার— কাকে নিশানা করে এমন খোঁচা দিলেন কুণাল? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার প্রকাশ্য রূপ নিল। দলের কঠিন সময়ে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় মমতার হাত ছাড়তেই তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। উত্তর কলকাতার প্রবীণ এই সাংসদকে লক্ষ্য করে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পর কুণাল ঘোষের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান দলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকেই স্পষ্ট করছে।
ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পুরনো ক্ষোভের বিস্ফোরণ
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বিঁধেছেন। তিনি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদলকে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি’ বলে উপহাস করেন এবং পরোক্ষভাবে তাঁর স্ত্রীকে জড়িয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। এই প্রসঙ্গে তিনি দলের অন্য এক দক্ষ নেতা তাপস রায়ের দল ছাড়ার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। কুণাল দাবি করেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারণেই অতীতে তাপস রায়ের মতো যোগ্য নেতাকে দল ছাড়তে হয়েছিল, যা নিয়ে মুখ খোলায় তৎকালীন সময়ে কুণাল ঘোষকে দল থেকে সাসপেন্ড হতে হয়েছিল। একই সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একাংশ ইতিমধ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করেছেন। কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একদল সাংসদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করার পর, শনিবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেখানে হাজির হন। এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন।
এই ঘটনার ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতাদের এভাবে শিবির বদল তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতে পারে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতায় দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অন্যান্য বিক্ষুব্ধ নেতাদের ধরে রাখা শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
