পরচুলাই কি কাল হল কেতনের! পুনের হত্যা মামলায় ঘনীভূত রহস্য – এবেলা

পরচুলাই কি কাল হল কেতনের! পুনের হত্যা মামলায় ঘনীভূত রহস্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পুনের বহুচর্চিত কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় এবার উঠে এল নতুন তথ্য। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিহত কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল দাবি করেছেন, তাঁর ছেলের পরচুলা বা হেয়ার প্যাচ ব্যবহারের বিষয়টি বিয়ের আগেই সিয়া গোয়েলের পরিবারকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল। সামান্য এই বিষয়টিকে খুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মানতে নারাজ তিনি। অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করার পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তভার একটি বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পিত হত্যা ও পুলিশের দাবি

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পরিবারের সম্মানহানির আশঙ্কায় বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সিয়া গোয়েল তাঁর কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে কেতনকে হত্যার ছক কষেন। অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৮ জুন পুনের লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়ে সিয়ার সংকেত পেয়ে চেতন পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে কেতনকে গভীর খাদে ফেলে দেন। যদিও তদন্তকারী আধিকারিকরা এখনও পর্যন্ত পরচুলা ব্যবহারের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনও সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পাননি, তবে এই ত্রিমুখী সম্পর্কের জটিলতাকেই খুনের মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বয়ানের অমিল ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি

হত্যারহস্যের জট খুলতে গিয়ে দুই পরিবারের বক্তব্যে সুস্পষ্ট অমিল তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। বিশাল আগরওয়ালের দাবি, সিয়াই লোহাগড় ট্রেকে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, সিয়ার মা পূজা গোয়েলের পালটা দাবি, ঘটনার আগের রাতে সিয়া ওই ট্রেকে যেতে আপত্তি জানালেও কেতন এবং তাঁর মা জোর করে তাকে রাজি করান। এই পরস্পরবিরোধী বয়ানের মাঝেই সিয়ার ভাই সাহিল গোয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে লোনাভলা পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বোন ও চেতনের সম্পর্কের কথা সাহিল আগে থেকেই জানতেন। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ফলে জনমানসে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এসআইটি-র তদন্ত সম্পন্ন হলে প্রকৃত সত্য ও হত্যার নেপথ্যে থাকা আসল উদ্দেশ্য পুরোপুরি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *