পরমাণু কেন্দ্রে ঢুকতে পারবে না রাষ্ট্রসংঘ, ভ্যান্সের দাবি ওড়ানোয় ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দাবি সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিল তেহরান। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে রাষ্ট্রসংঘের ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’ বা আইএইএ (IAEA)-এর প্রতিনিধিদের কোনোভাবেই পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছে ইরান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার মাঝেই নতুন করে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও সংঘাতের কারণ
দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা ও ইসরায়েলের অভিযোগ ছিল যে, গোপন ঘাঁটিতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে ইরান। এই সন্দেহের ভিত্তিতেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ এবং ইস্পাহান পরমাণু কেন্দ্রে তীব্র হামলা চালায় আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি করলেও, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা অজানাই থেকে যায়। পরবর্তীতে খবর ছড়ায়, প্রায় ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছে তেহরান। পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যেই সেখানে রাষ্ট্রসংঘের পরিদর্শক পাঠানোর জন্য চাপ দিতে থাকে আমেরিকা। সোমবার জেডি ভ্যান্স দাবি করেছিলেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইরান পরিদর্শনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
ইরানের প্রত্যাখ্যান ও সম্ভাব্য প্রভাব
মঙ্গলবার ভ্যান্সের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। তিনি স্পষ্ট জানান, আইএইএ-র সঙ্গে তাঁদের কোনো বৈঠক হয়নি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাও নেই। মূলত মার্কিন হামলার পর আইএইএ তার নিন্দা না করায় ইরান পার্লামেন্ট আগেই সংস্থাটির সঙ্গে যাবতীয় অসহযোগিতার বিল পাশ করেছিল। ইরানের এই কঠোর অবস্থানে চরম ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, চুক্তির অধীনে পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি না দিলে সমস্ত শান্তি বৈঠক বাতিল হয়ে যাবে। তেহরানের এই অনড় অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে টানাপোড়েনের আবহ ঘনীভূত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি চুক্তির সম্ভাবনাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।
