পরিচয় ভাঁড়িয়ে প্রেম, তারপর অপহরণ ও গণধর্ষণ! দিল্লির ‘লভ জিহাদ’ কাণ্ডে তোলপাড় – এবেলা

পরিচয় ভাঁড়িয়ে প্রেম, তারপর অপহরণ ও গণধর্ষণ! দিল্লির ‘লভ জিহাদ’ কাণ্ডে তোলপাড় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দিল্লিতে ভুয়ো পরিচয়ে বিয়ে ও ধর্মান্তরণ, দলিত তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় দেশ

দিল্লির জামিয়া নগর থানা এলাকায় এক ২৩ বছর বয়সী দলিত হিন্দু তরুণীকে অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ ও গণধর্ষণের এক ভয়ঙ্কর ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওই তরুণীর ওপর লাগাতার এই অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। মূল অভিযুক্ত ফহিম নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে ‘সাহিল’ নামে একটি ভুয়ো হিন্দু পরিচয় ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিল। পরবর্তীতে ওই তরুণীকে অপহরণ করে জোর করে বিয়ে ও ধর্মান্তর করা হয় বলে অভিযোগ।

তদন্ত ও গ্রেফতারি

দীর্ঘ নির্যাতন সহ্য করার পর ভুক্তভোগী তরুণী কোনোভাবে অভিযুক্তদের কবল থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন এবং গত ১৪ মে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে জামিয়া নগর থানা পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির অপহরণ, ধর্ষণ, ফৌজদারি হুমকি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। এই চক্রের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তের মা তসলিমা, বাবা খুরশিদ, ভাই জায়েদ এবং মৌলবি মোহাম্মদ খালিদ সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।

মূল অভিযুক্তের অপরাধের পরিধি ও সম্ভাব্য প্রভাব

ঘটনার মূল অভিযুক্ত ফহিম বর্তমানে অন্য একটি অপরাধের মামলায় উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের দাসনা জেলে বন্দি রয়েছে। জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্তকে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে এনে ঘটনার পুনর্গঠন করা হবে। এই ঘটনার ফলে রাজধানীতে নারীদের নিরাপত্তা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার করে পরিচয় গোপন করার মতো অপরাধমূলক প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন এই চক্রের শিকড় অবধি পৌঁছাতে কঠোর তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • দিল্লির জামিয়া নগর এলাকায় ২৩ বছরের এক দলিত হিন্দু তরুণীকে অপহরণ, ধর্মান্তরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগ।
  • মূল অভিযুক্ত ফহিম ‘সাহিল’ সেজে ভুয়ো হিন্দু পরিচয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে।
  • ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চলা এই দীর্ঘ নির্যাতনে জড়িত থাকার অভিযোগে ফহিমের বাবা, মা ও ভাইসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
  • মূল অভিযুক্ত বর্তমানে গাজিয়াবাদের জেলে বন্দি রয়েছে এবং তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লিতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *