পর্দার আড়ালে RAW: চর নিয়োগের রহস্য ফাঁস, নাকি ‘ধুরন্ধর’-এর গল্পই ভুয়া? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত গোপনীয় এবং সাধারণ সরকারি চাকরির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সম্প্রতি প্রাক্তন গোয়েন্দা লাকি বিষ্টের এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এই রোমাঞ্চকর তথ্য। জানা গেছে, এই সংস্থায় যোগ দেওয়ার জন্য কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় না; বরং দক্ষ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণে রেখে জহুরির চোখে বেছে নেয় খোদ সংস্থা। সাধারণত সেনাবাহিনী বা গোয়েন্দা বিভাগ থেকে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়।
গোয়েন্দা হিসেবে চূড়ান্ত নির্বাচনের ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতার চেয়ে প্রার্থীর মনস্তত্ত্ব এবং সততাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীকে কয়েকশ অতর্কিত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, যার মূল লক্ষ্য থাকে তার ধৈর্য এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা পরীক্ষা করা। এখানে বুদ্ধিমত্তার চেয়েও প্রার্থীর ছদ্মবেশ ধারণের ক্ষমতা এবং যেকোনো পরিবেশে মিশে যাওয়ার দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। গোয়েন্দা হিসেবে সাহসের চেয়েও সংস্থার প্রতি নিঃস্বার্থ আনুগত্যই হলো প্রধান যোগ্যতা।
প্রকৃতপক্ষে, ‘র’ কোনো সাধারণ কর্মসংস্থান নয়, বরং এটি একটি কঠিন মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। এখানে প্রার্থীরা আবেদন করেন না, বরং তাদের অলক্ষ্যেই সংস্থা তাদের ওপর নজরদারি চালিয়ে যোগ্য মনে করলে তবেই নিয়োগ করে। ‘ধুরন্ধর’ সিরিজের মতো চাকচিক্য নয়, বাস্তব গোয়েন্দা জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং গোপনীয়তায় মোড়া। পরিচয় গোপন রেখে দেশের জন্য কাজ করাই একজন এজেন্টের আসল চ্যালেঞ্জ, যা সাধারণ মানুষের কল্পনার অতীত।

