পর্যটকবাহী হেলিকপ্টার নিখোঁজ, জাপানের আগ্নেয়গিরি অভিযানে ঘনাচ্ছে রহস্য – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
টোকিও: জাপানের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ‘মাউন্ট আসো’ ভ্রমণে গিয়ে তিন আরোহীসহ নিখোঁজ হয়েছে একটি পর্যটকবাহী হেলিকপ্টার। মঙ্গলবার সকালে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই কপ্টারটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই ঘটনায় জাপানের পর্যটন মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বেলা ১০টা ৫২ মিনিটে মাউন্ট আসো অঞ্চলের আকাশপথ পরিদর্শনের জন্য হেলিকপ্টারটি যাত্রা শুরু করেছিল। মাত্র ১০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত ট্যুর হওয়ার কথা ছিল এটি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কপ্টারটি ফিরে না আসায় তল্লাশি শুরু করেন উদ্ধারকারীরা। নিখোঁজ হওয়ার সময় কপ্টারটিতে ৬৪ বছর বয়সী একজন অভিজ্ঞ পাইলট এবং তাইওয়ানের দুই পর্যটক (একজন পুরুষ ও একজন নারী) ছিলেন। উল্লেখ্য, ওই পাইলটের আকাশপথে প্রায় ৪০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থলে ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন
বিকেলের দিকে পুলিশের একটি তল্লাশি হেলিকপ্টার মাউন্ট আসোর ‘নকডাকে’ শৃঙ্গের জ্বালামুখের কাছে একটি বস্তুর সন্ধান পায়, যা দেখতে অনেকটা নিখোঁজ হেলিকপ্টারটির মতোই। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঘন মেঘের কারণে সেটিই নির্দিষ্ট কপ্টার কিনা, তা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আবহাওয়ার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি আবহাওয়া?
নিখোঁজ হেলিকপ্টারটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ‘রবিনসন আর-৪৪’ মডেলের। হেলিকপ্টার অপারেটর সংস্থা ‘তাকুমি এন্টারপ্রাইজ’ জানিয়েছে, ওইদিন এটি ছিল কপ্টারটির তৃতীয় ট্রিপ। এর আগের দুটি ট্রিপে কোনও ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ ধরা পড়েনি। তবে এই ঘটনার পর নিরাপত্তার খাতিরে সংস্থাটি তাদের সমস্ত হেলিকপ্টার পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মাউন্ট আসো ও নিরাপত্তার প্রশ্ন
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুমামোটো প্রিফেকচারের এই আগ্নেয়গিরি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এর আগেও এখানে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। ২০২৪ সালের শুরুতেই তাকুমি এন্টারপ্রাইজের একটি কপ্টার জরুরি অবতরণ করতে গিয়ে তিনজন আহত হয়েছিলেন। ২০২১ সালেও এই আগ্নেয়গিরি থেকে ভয়াবহ অগ্নুৎপাতের ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

