পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত, আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে ইরান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শান্তিসূত্র খোঁজার পথে হাঁটছে আমেরিকা ও ইরান। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ মউ’ (স্মারকপত্র) স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সাথে শান্তি আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক রূপ দেখা যেতে পারে। তবে সংঘাতের অন্যতম প্রধান উৎস তেহরানের বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্প নিয়ে এখনই কোনো আলোচনা হচ্ছে না; বিষয়টি রাখা হয়েছে আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিলেও তেহরান তা অস্বীকার করেছিল, কিন্তু এবার স্বয়ং ইরানের বিদেশমন্ত্রীর কণ্ঠেও সুর মিলল।
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান ধারাবাহিক হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মধ্যপ্রাচ্য। এই যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে দুই পক্ষ ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকে বসলেও শুরুতে তা ফলপ্রসূ হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘ইসলামাবাদ মউ’ চুক্তিটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে চলেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম আমেরিকা লিখিতভাবে ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোর এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই চুক্তির ফলে কেবল ইরান-আমেরিকা যুদ্ধই নয়, বরং লেবাননসহ বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া আঞ্চলিক সংঘাতেরও অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই ধাপের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পরমাণু সংকট
ইরানের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই শান্তি প্রক্রিয়া মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে ‘ইসলামাবাদ মউ’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটবে। এরপর শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপ, যেখানে তেহরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পরমাণু ইস্যুতে সরাসরি কোনো সমাধান সম্ভব নয় বলেই দুই পক্ষ এই দ্বি-স্তরীয় আলোচনা পদ্ধতিতে সম্মত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে তারও আংশিক সমাধানের পথ খুলছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করেছিল, যার পাল্টা জবাবে সেখানে প্রহরা বসায় মার্কিন বাহিনী। চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে এবং সুরক্ষার দায়িত্ব নেবে। তবে যুদ্ধের আগের মতো অবাধ যাতায়াত আর সম্ভব হবে না; জলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরান বিশেষ শুল্ক ও কিছু কড়া শর্ত আরোপ করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এছাড়া, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অবরুদ্ধ হওয়া ইরানের বিপুল আর্থিক সম্পদ ও অনুদান পুনরুদ্ধারের বিষয়েও এই চুক্তিতে বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
