‘পশ্চিমবঙ্গকে ছাড়া বিকশিত ভারত আসাম্ভব’, নবান্নে দাঁড়িয়ে বড় বার্তা শিবরাজ সিং চৌহানের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নবান্ন: দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা ৮২,৪৯২ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজে অবশেষে গতি এল। সোমবার ও মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের রাজ্য সফরের শেষলগ্নে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক বাধা কাটিয়ে বাংলার উন্নয়নের পথে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ভোটের সময় দেওয়া ‘হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ’—এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান স্পষ্ট জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ছাড়া ‘বিকশিত ভারত’ গঠন করা আসাম্ভব।
প্রকল্পের মূল দিকগুলি:
- ১০০ দিনের কাজে বাড়তি গুরুত্ব: ‘বিকশিত ভারত জি রামজি’ প্রকল্পে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৮,৫০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অদক্ষ, অর্ধ-দক্ষ ও দক্ষ শ্রমিকদের জন্য দৈনিক মজুরি যথাক্রমে ৩০০, ৪৫০ ও ৬০০ টাকা নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় অতিরিক্ত ৫০ দিনের কাজের সুযোগ রাখা হয়েছে।
- আবাস যোজনায় ১ লক্ষ বাড়ি: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটাতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় সরাসরি ১ লক্ষ বাড়ির অনুমোদন রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কাঁচা বাড়ির তালিকা তৈরির সময়সীমা ১৫ অগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
- ৮০ লক্ষ ‘লাখপতি দিদি’: দিনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনার মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে ২৪৫ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক লোন এবং ৫০ কোটি টাকার ‘কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ রিলিজ করা হয়েছে।
- পূর্ব ভারতের ‘বীজ হাব’ বাংলা: পশ্চিমবঙ্গকে কৃষিক্ষেত্রে স্বনির্ভর করতে আইসিএআর-এর সহযোগিতায় একটি ‘এগ্রিকালচার রোডম্যাপ’ তৈরি হচ্ছে। এখন থেকে হাইব্রিড ভুট্টা ও আলুর বীজ ভিন রাজ্যের পরিবর্তে বাংলাতেই উৎপাদিত হবে।
- কৃষি ও রাস্তা: মালদহে উদ্যানপালন ফসলের জন্য ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প এবং হুগলির চুঁচুড়ায় ধান গবেষণা কেন্দ্রকে ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ হিসেবে গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রাম সড়ক যোজনায় ২৪০০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরির জন্য প্রথম দফায় ১০০০ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিকে ঢেলে সাজাতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ শুরু করায় নতুন আশার আলো দেখছেন রাজ্যবাসী।
