পা কাটা, মুখ ঝলসে গেছে! হামলায় গুরুতর আহত মোজতবা খামেনেইয়ের মৃত্যু হতে পারে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেশটির দায়িত্বভার গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি তার ছেলে মোজতবা খামেনেই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনেইয়ের বাসভবনে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস ধরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তার চিকিৎসা চলছে। হামলার তীব্রতায় তার একটি পা বাদ দিতে হয়েছে এবং কৃত্রিম পা স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।
শারীরিক অবস্থা ও গোপনীয়তা
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। হামলায় তার মুখমণ্ডল ও ঠোঁট গুরুতরভাবে পুড়ে যাওয়ায় তার কথা বলতে প্রচণ্ড সমস্যা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তার পায়ে তিনটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং হাতের সার্জারিও করা হয়েছে। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বর্তমানে অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরাসরি তার চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছেন। নিরাপত্তার খাতিরে কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশ না করে তিনি কেবল হাতে লেখা বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আইআরজিসি
মোজতবা খামেনেই গুরুতর অসুস্থ থাকায় ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে দেশটির শাসনভার কার্যত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) জেনারেলদের হাতে চলে গেছে। মোজতবা খামেনেই এখন অনেকটা ‘বোর্ড অফ ডিরেক্টরস’-এর প্রধানের মতো কাজ করছেন, যেখানে নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো মূলত জেনারেলদের পরামর্শেই নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার চেয়ে সামরিক বাহিনীর প্রভাব বহুগুণ বেড়ে গেছে।
এক ঝলকে
- আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় গুরুতর আহত ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনেই।
- হামলায় একটি পা হারানো ছাড়াও তার মুখমণ্ডল ও ঠোঁট মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে।
- শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে থেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
- ইরানের প্রকৃত ক্ষমতা এখন আইআরজিসি জেনারেলদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
