লেটেস্ট নিউজ

পাইলটদের বিশ্রামের নিয়মে কড়া দিল্লি হাইকোর্ট, জানাল নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস নয় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দিল্লি হাইকোর্ট ডিজিসিএ (DGCA)-এর পাইলটদের বিশ্রামের নিয়মে শিথিলতা আনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুনানি চলাকালীন আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নিয়মগুলো পালন না করা সরাসরি যাত্রীদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।

ইন্ডিগো-র হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর ডিজিসিএ তাদের নিয়মে কিছু পরিবর্তন এনেছিল। এই বিষয়েই এখন হাইকোর্ট ডিজিসিএ-র কাছে জবাব তলব করেছে। আদালত সাফ জানিয়েছে, যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা যাবে না।

গত বছর ৫ ডিসেম্বর ডিজিসিএ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাইলটদের সাপ্তাহিক বিশ্রামের নিয়মগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এই নিয়মগুলো ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ‘ক্রু রেস্ট’ নিয়মের অধীনে আনা হয়েছিল।

আদালত বলেছে, পাইলটদের ক্লান্তি সংক্রান্ত নিয়মগুলো পালন না করলে তার গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই নিয়মগুলো সংশোধিত এফডিটিএল (FDTL) ফ্রেমওয়ার্কের অংশ ছিল, যা পাইলটদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের পর যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে কাজের ঘণ্টার ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

নিয়ম কার্যকর হতেই ভেঙে পড়েছিল ব্যবস্থা

সরকার ও ডিজিসিএ-র পক্ষ থেকে এই নিয়মগুলো ১ নভেম্বর কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হলেও, এর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ ডিসেম্বর থেকে। কিন্তু নিয়ম কার্যকর হতেই পরিষেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। শুধুমাত্র ইন্ডিগো-র ২৫০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং প্রায় ২০০০ ফ্লাইট দেরিতে চলাচল করে। চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত একটি সরকারি তদন্তে দেখা গেছে যে, এয়ারলাইনটি “পরিকল্পনার ত্রুটিগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

উদ্বেগ উপেক্ষা করা যায় না: আদালত

শুনানি চলাকালীন দিল্লি হাইকোর্ট বলে, “নিয়মগুলো বলবৎ রয়েছে। এর সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তার সরাসরি সম্পর্ক আছে। রেগুলেটর কিছু নিয়ম তৈরি করেছে। নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্যকর? কিন্তু বাস্তবে সেগুলো মেনে চলা হয়নি। যতক্ষণ না এই নিয়মগুলো পরিবর্তন বা চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে, ততক্ষণ এগুলো কার্যকর রাখতে হবে। এই নিয়মগুলোর সরাসরি প্রভাব পড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর। তাই উদ্বেগগুলো উপেক্ষা করা যায় না।”

ইন্ডিগোর আইনজীবীর যুক্তি

ইন্ডিগোর আইনজীবী যুক্তি দেন যে, আবেদনকারী বেছে বেছে শুধুমাত্র ইন্ডিগোকে নিশানা করেছেন, অথচ এই নিয়ম দেশের সমস্ত এয়ারলাইন্সের জন্য প্রযোজ্য। আদালতও এই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে যে, যখন ছাড় সমস্ত এয়ারলাইন্সকে দেওয়া হয়েছিল, তখন আইনি প্রক্রিয়ায় কেন শুধু ইন্ডিগোকে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

আদালত আরও যোগ করে যে, যদিও নোটিশটি ইন্ডিগোর অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর জারি করা হয়েছিল, কিন্তু সেই নোটিশ ছিল সমস্ত এয়ারলাইন্সের জন্য এবং যাত্রীদের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই তা করা হয়েছিল। এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *