পাকিস্তান ও তালেবান সংঘাতের দাবানল কি দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন যুদ্ধের সংকেত দিচ্ছে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সীমান্ত সংঘাত আর আকাশপথে পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ইসলামাবাদের সামরিক ঘাঁটিতে তালেবানের প্রত্যাঘাত এবং আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানি বাহিনীর বোমাবর্ষণ পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বশক্তির মেরুকরণ এবং ভারতের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিশ্লেষণ।
ভারতের কড়া বার্তা ও আফগানিস্তানের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থন
পাকিস্তান ও তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ভারত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পাকিস্তান নিজের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের এই হামলাকে ভারত সরাসরি ‘ভুল পদক্ষেপ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নয়াদিল্লির এই কড়া অবস্থান পরোক্ষভাবে কাবুলের প্রতি ভারতের সমর্থনকেই জোরালো করছে, যা ইসলামাবাদের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ধাক্কা।
কৌশলগত নীরবতায় চীন ও সতর্ক অবস্থানে বিশ্বশক্তি
দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও চীন এই ইস্যুতে অত্যন্ত সতর্ক এবং নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করছে। চীনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি বজায় রাখার কথা বললেও তাদের অবস্থান তালেবান ঘেঁষা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, রাশিয়া বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে একটি যারা তালেবান সরকারের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। অদ্ভুতভাবে, দক্ষিণ এশিয়ার এই বড় সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কোনো জোরালো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সমরশক্তির আসাম লড়াই ও পরমাণু শক্তির দাপট
আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের রিপোর্ট অনুযায়ী, শক্তির বিচারে পাকিস্তান তালেবানের তুলনায় অনেক এগিয়ে। পাকিস্তানের প্রায় ৬,৬০,০০০ সক্রিয় সৈন্যের বিপরীতে তালেবানের হাতে রয়েছে মাত্র ১,৭২,০০০ যোদ্ধা। পাকিস্তান যেখানে অত্যাধুনিক চীনা প্রযুক্তির সমরাস্ত্র এবং প্রায় ১৭০টি পরমাণু বোমার অধিকারী, সেখানে তালেবানের শক্তি মূলত সোভিয়েত আমলের পুরনো ট্যাংক এবং গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। তবে সামরিক শক্তি বেশি থাকলেও আফগানিস্তানের দুর্গম পাহাড় আর তালেবানের মরণপণ লড়াই পাকিস্তানের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান এই অস্থিরতা কি কেবল সীমান্ত সংঘাত হিসেবেই থেমে থাকবে, নাকি ভারত-চীন-রাশিয়ার হস্তক্ষেপে দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র বদলে দেবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

