পাম্প হাউসে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! দেড় মাস পর ‘পলাতক’ তৃণমূল নেতাকে টেনে বের করে গণধোলাই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কোচবিহার: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন। ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত সেই ‘নিখোঁজ’ তৃণমূল নেতাকে দীর্ঘ দেড় মাস পর খুঁজে বের করে চরম শাস্তি দিল ক্ষুব্ধ জনতা। রবিবার কোচবিহার জেলার বক্সিরহাটে একটি পাম্প হাউস থেকে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে বেধড়ক গণপিটুনি দেওয়া হয়।
কীভাবে ধরা পড়লেন ওই নেতা? রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতি ও হিংসার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন। এরপরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গা ঢাকা দিতে শুরু করেন অনেক তৃণমূল নেতা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের মহিষকুচি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাকলা এলাকার ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসায় যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ ছিল। গত দেড় মাস ধরে তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন এলাকার মানুষ। অবশেষে রবিবার গোপন সূত্রে খবর মেলে, নিজের বাড়ির কাছেই টাটেরকুঠি এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের (PHE) একটি পাম্প হাউসের ভেতরে লুকিয়ে রয়েছেন তিনি।
পুলিশের হস্তক্ষেপে উদ্ধার: এই খবর চাউর হতেই সেখানে লাঠি-সোঁটা নিয়ে ছুটে যায় উত্তেজিত জনতা। পাম্প হাউসের ভেতর থেকে ওই নেতাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে এনে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে খবর যায় বক্সিরহাট থানায়।
দ্রুত বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নেতাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তাঁকে বক্সিরহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে, সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
