পারস্য উপসাগরের জলেই কি সলিল সমাধি হবে আমেরিকার! পারস্য উপসাগর দিবসে চরম হুঁশিয়ারি খামেনির – এবেলা

পারস্য উপসাগরের জলেই কি সলিল সমাধি হবে আমেরিকার! পারস্য উপসাগর দিবসে চরম হুঁশিয়ারি খামেনির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পারস্য উপসাগর দিবসের ঐতিহাসিক আবহে সরাসরি আমেরিকাকে নিশানা করে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি। বৃহস্পতিবার ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসা বিদেশি শক্তির জন্য পারস্য উপসাগরের জলের গভীর ছাড়া আর কোনো জায়গা হবে না। খামেনির এই কড়া বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।

আমেরিকাবিহীন নতুন বিশ্বব্যবস্থার ডাক

খামেনি দাবি করেন, ইরানের ‘প্রতিরোধ নীতি’র কারণেই এই অঞ্চলে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা বা ‘নিউ অর্ডার’ প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে, যেখানে আমেরিকার কোনো স্থান নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের তীরবর্তী দেশগুলোর ভাগ্য একে অপরের সঙ্গে জড়িত, তাই বাইরের কোনো শক্তির এখানে নাক গলানো উচিত নয়। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সমৃদ্ধি কেবল তখনই সম্ভব যখন এই অঞ্চল বিদেশি নিয়ন্ত্রণমুক্ত হবে।

সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির দম্ভোক্তি

দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু প্রযুক্তিতে অভাবনীয় উন্নতির কথা উল্লেখ করে খামেনি জানান, ইরান এখন আর কেবল তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়। ন্যানো প্রযুক্তি থেকে শুরু করে বায়ো-টেকনোলজিতেও ইরান বিশ্বকে টক্কর দিচ্ছে। তাঁর দাবি, দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা ৯ কোটি ইরানি নাগরিক আজ এই প্রযুক্তিগুলোকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে দেখে এবং যেকোনো আগ্রাসন রুখতে তারা ঐক্যবদ্ধ। এই সামরিক সক্ষমতা আদতে আমেরিকার ‘রক্তপিপাসু মানসিকতা’ ও জায়নবাদের বিরুদ্ধে বড় ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

১৬২২ সালে পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক বাহিনীকে বিতাড়িত করার স্মরণে পালন করা এই দিবসে খামেনির এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও পশ্চিমী দেশগুলোর দীর্ঘদিনের সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব। এর ফলে ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এক ঝলকে

  • পারস্য উপসাগর দিবসে সরাসরি আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি।
  • তিনি দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে বিদেশি শক্তির কোনো স্থান নেই এবং তাদের সমাধি হবে জলের গভীরে।
  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে দেশের ৯ কোটি নাগরিকের জাতীয় সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
  • ১৬২২ সালে পর্তুগিজদের বিতাড়নের ঐতিহাসিক দিনটি উদযাপনে এই কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *