পাহাড়ে হানিমুনে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি! ৬৫% দগ্ধ নববধূর ঘটনায় সিল হোমস্টে, গ্রেফতার ৪ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 22, 20266:28 pm
কার্শিয়াং: পাহাড়ে হানিমুনে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়া নববধূর ঘটনায় অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। কার্শিয়াংয়ের সিটিং-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের খাসমহল এলাকার যে আলোচিত হোমস্টেটিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল, মঙ্গলবার সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার আট দিন পর ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করার পরই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিছকই গাফিলতি নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গাঢ় রহস্য রয়েছে, তা ফরেনসিক রিপোর্ট পেলেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ সেপ্টেম্বর। কার্শিয়াংয়ের ওই হোমস্টেতে সান্ধ্যকালীন আড্ডায় বারবিকিউ তৈরি করছিলেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা নিকিতা সাহা। অভিযোগ, সেখানে বারবিকিউয়ের আগুনে তরল জ্বালানি ঢালতেই আচমকা দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে নিকিতার শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ অংশ গভীরভাবে পুড়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হোমস্টে কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকার ফলেই এত বড় বিপর্যয় ঘটেছে। শুধু তা-ই নয়, দুর্ঘটনার পরপরই আহত তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো সহযোগিতা মেলেনি বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে পরিবার।
অভিযোগ পেতেই দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করে পুলিশ। একে একে গ্রেফতার করা হয় হোমস্টের মালিক নেহাল আইরান, ম্যানেজার দীপেন লামা, কর্মী পবন আগরওয়াল এবং শ্রমিক নাসিরুদ্দিনকে।
বর্তমানে কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন মারাত্মকভাবে দগ্ধ নিকিতা। নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে মেয়ের এই দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রায় আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। চরম বিপদে পড়ে রাজ্য সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্যের আকুল আর্জি জানিয়েছেন নিকিতার বাবা নির্মল সাহা।
অন্যদিকে, পাহাড়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন গুরুতর প্রশ্ন ওঠায় নড়েচড়ে বসেছে পর্যটন দফতর ও দমকল বিভাগ। পাহাড়ের সমস্ত নথিভুক্ত ও অনথিভুক্ত হোমস্টেগুলিতে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা কড়া হাতে খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল নামানো হয়েছে।
