পিওকে-তে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ‘সন্ত্রাসী’ স্লোগান! রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে জ্বলছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আসিম মুনির সন্ত্রাসী! পিওকের রাজপথে পাকিস্তান বিরোধী দাবানল
পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (পিওকে) আজ ৯ জুন ইতিহাসের নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছেন। জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) আহবানে ‘লং মার্চ টু মুজাফফারাবাদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাওয়ালকোটসহ পুরো অঞ্চল।
সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষ
বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর নাম। রাজপথের অলিগলিতে হাজারো মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে ‘আসিম মুনির একজন সন্ত্রাসী’—এমন বিস্ফোরক স্লোগান। রাওয়ালকোটের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় মসজিদগুলো থেকেও মাইকে ঘোষণা দিয়ে জনগণকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিদেশি শক্তির মতো পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের মাটিতে আধিপত্য বিস্তার করছে।
আন্দোলনের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
স্থানীয় রাজনৈতিক অধিকার, প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন এবং অর্থনৈতিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন মূলত শুরু হয়েছিল। জেএএসি নেতা খাজা মেহরান ও শওকত নওয়াজ মীরের মতো নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তান সরকার তাদের কণ্ঠস্বর দমনের জন্য বলপ্রয়োগ করছে এবং তরুণদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই তারা আধাসামরিক বাহিনীর কাছে মাথা নত করবেন না।
বর্তমানে পুরো অঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ব্যাপক হারে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জনরোষ যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে পিওকের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও শিথিল হয়ে পড়তে পারে। স্থানীয়দের এই অনমনীয় অবস্থান পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
