“পিরিয়ড কোনো লজ্জা নয়!” সহপাঠীর বিপদে দেবদূতের মতো পাশে ১২ বছরের কবীর, ছেলের শিক্ষায় গর্বিত অভিনেত্রী মা

বলিউডের পরিচিত মুখ গিরিজা ওক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে কবীরের একটি বিশেষ ঘটনার কথা শেয়ার করেছেন। স্কুলে থাকাকালীন এক সহপাঠী কিশোরীর শারীরিক অস্বস্তি ও ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা আঁচ করতে পেরে কবীর যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কবীরের মা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁর ছেলেকে নারীদেহের এই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিয়েছেন, যার প্রতিফলন ঘটেছে কবীরের এই সংবেদনশীল আচরণে।
শিক্ষার প্রতিফলন ও সহমর্মিতা
ঘটনাটি ঘটে কবীরের স্কুল ছুটির পর মেট্রোতে বাড়ি ফেরার পথে। কবীর লক্ষ্য করে, তার এক সহপাঠী ঋতুস্রাবজনিত কারণে ভীষণ শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। কোনো দ্বিধা না করে সে দ্রুত মেট্রোর ভিড়ে একটি আসন নিশ্চিত করে এবং ওই ছাত্রীকে বসার সুযোগ করে দেয়। পরে ওই ছাত্রীর মা কবীরের বাবা-মাকে ফোন করে এই সৌজন্যবোধ ও সুশিক্ষার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। গিরিজা জানান, বাড়িতে পোষ্য থাকার সুবাদে মানুষ ও প্রাণীর শারীরিক চক্রের পার্থক্য বুঝিয়ে তিনি কবীরকে সচেতন করেছিলেন।
সামাজিক প্রভাব ও সচেতনতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতুস্রাব নিয়ে সমাজে যে ট্যাবুর দেয়াল রয়েছে, তা ভাঙতে কবীরের মতো কিশোরদের ভূমিকা অপরিসীম। মা-বাবার কাছ থেকে সঠিক সময়ে সঠিক শিক্ষা পেলে ছেলেরা নারীর প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে। গিরিজা ওকের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জনসমক্ষে আসায় তা অনেক অভিভাবককে সন্তানদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও লিঙ্গ সংবেদনশীলতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। এই সচেতনতা আগামী দিনে একটি সুস্থ ও কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ১২ বছর বয়সী কবীর মেট্রোতে ঋতুস্রাবজনিত সমস্যায় ভোগা এক সহপাঠীকে আসন দিয়ে সাহায্য করে।
- অভিনেত্রী গিরিজা ওক নিজের ছেলেকে ছোট থেকেই নারীদেহের জৈবিক পরিবর্তন সম্পর্কে শিক্ষিত করেছেন।
- সহপাঠীর মা কবীরের এই বিশেষ সৌজন্য ও পারিবারিক শিক্ষার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
- ঘটনাটি ঋতুস্রাব নিয়ে প্রচলিত সামাজিক জড়তা কাটাতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
