পুজোর আগেই পদ্মায় রূপোলি চমক! জালে উঠছে ভারী ইলিশ, হাসি ফুটল মৎস্যজীবীদের মুখে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লালগোলা: শারদোৎসবের আবহ চারদিকে। আর ঠিক পুজোর মুখেই পদ্মা নদীর উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে মৎস্যজীবীদের জালে ধরা দিচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপোলি শস্য—ইলিশ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি ভাসানো মৎস্যজীবীদের ঘরে এখন খুশির হাওয়া। চলতি সপ্তাহ থেকেই পদ্মার তীরে নামা মাছের জোগান দেখে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তাঁরা।
জালে ওঠা ইলিশের ওজনেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ৮০০ গ্রাম থেকে শুরু করে এক কেজিরও বেশি ওজনের ইলিশ যেমন উঠছে, তেমনই পাওয়া যাচ্ছে ছোট আকারের ইলিশও। ছোট ইলিশের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যেও আশার আলো দেখা দিয়েছে। ফলে এবারের পুজোয় পাতে পদ্মার ইলিশের স্বাদ পাওয়ার সুযোগ থাকছে অনেকের জন্যই।
বাজারে ইলিশের দরদাম:
- ৫০০ গ্রাম ওজন: কেজি প্রতি প্রায় ১২০০ টাকা।
- ৬০০–৭০০ গ্রাম ওজন: কেজি প্রতি ১৪০০ টাকার উপরে।
- ১ কেজির বেশি ওজন: কেজি প্রতি ২৫০০ থেকে ৩২০০ টাকা (চাহিদা বুঝে কোনো কোনো বিক্রেতা একেকটি বড় মাছের দাম ৪০০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন)।
বাজারের চিত্র ও স্থানীয়দের অনুভূতি: লালগোলা নেতাজি মোড়ের মীন ভবনের সামনে প্রতিদিন বিকেলে বসে জমজমাট মাছের বাজার। থালায় সাজানো বিভিন্ন মাছের মাঝে ক্রেতাদের নজর ও ভিড় সবচেয়ে বেশি পদ্মার ইলিশের দিকেই। তবে চাহিদার তুলনায় জোগানে কিছুটা ঘাটতি থাকায় ব্যবসায়ীদের মনে সামান্য আক্ষেপ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৎস্যজীবী জানান, “পদ্মায় প্রতিদিন একই রকম মাছ মেলে না। তাও এখন মাঝেমধ্যে ভাল ইলিশ পাওয়ার আশায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল নদীতে ডিঙি ভাসাই।”
একই সুর স্থানীয় বাসিন্দা রতন ঘোষের গলায়। বাজার থেকে বড় ইলিশ কেনার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “পদ্মার টাটকা বড় ইলিশ দেখলেই কেনার লোভ সামলানো যায় না। কিন্তু বড় মাছের সংখ্যা কম থাকায় বিক্রেতারা সহজে দাম কমাতে চান না। সেদিন ৩০০০ টাকা দিয়ে একটি মাছ কিনলাম, কিছুতেই দাম কমাল না।”
সব মিলিয়ে, দরদামের ওঠানামা সত্ত্বেও পুজোর ঠিক মুখে পদ্মার টাটকা ইলিশ ঘিরে মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে ভোজনরসিক বাঙালির উদ্দীপনা এখন তুঙ্গে।
