পুণ্যনগরী কাঞ্চীপুরমেও ভাঙছে সম্পর্কের চেনা ছক, পরকীয়ার অ্যাপে রেকর্ড ভারতীয়দের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রাচীন মন্দির আর বিশ্বখ্যাত সিল্ক শাড়ির জন্য পরিচিত তামিলনাড়ুর পুণ্যনগরী কাঞ্চীপুরম এখন ভারতের দাম্পত্য সম্পর্কের এক নীরব পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের সমস্ত বড় মেট্রো শহরকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে এই ঐতিহ্যবাহী শহর। বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের জন্য বিশ্বখ্যাত ডেটিং প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যাশলে ম্যাডিসন’-এর সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসের হিসাব অনুযায়ী, এই অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে কাঞ্চীপুরম থেকে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা নিয়ে শহরটি পরপর দু’বছর এই তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখল।
ডিজিটাল ট্রেন্ডে দক্ষিণ ভারতের দাপট ও বিশ্বমঞ্চে ভারতের উত্থান
ভারতের এই পরকীয়া-প্রীতির ডিজিটাল ট্রেন্ডে মূলত দক্ষিণ ভারতের শহরগুলির দাপট স্পষ্ট। কাঞ্চীপুরমের ঠিক পরেই তালিকার প্রথম চারটি স্থান দখল করে রেখেছে যথাক্রমে কোয়েম্বাটোর, তিরুভাল্লুর এবং চেন্নাই। তবে এই প্রবণতা কেবল দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, বিশ্বমঞ্চেও বড়সড় বদল এসেছে। অ্যাশলে ম্যাডিসন অ্যাপের সদস্যপদ গ্রহণের নিরিখে বিশ্বের ২০টি দেশের মধ্যে ভারত গত বছরের অষ্টম স্থান থেকে একধাক্কায় চলতি বছরে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, ‘গ্লিডেন’ নামের অপর একটি পরকীয়া ডেটিং অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে তাদের গ্রাহক সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৪০ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে।
মানসিকতার পরিবর্তন ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল পরিসংখ্যান ভারতীয় সমাজ ও প্রথাগত দাম্পত্যের এক গভীর পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করছে। আধুনিক জীবনযাত্রা এবং সম্পর্কের সংজ্ঞা যে দ্রুত পাল্টাচ্ছে, এবং তা যে কেবল বড় মেট্রো শহরের গণ্ডিতে আটকে নেই, এই সমীক্ষা তারই বড় প্রমাণ। আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখার সুবিধা এ দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে সঙ্গী খোঁজার আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতের প্রথম ও দ্বিতীয় সারির শহরগুলির ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী বিবাহিত নারী-পুরুষদের একটি বড় অংশ প্রথাগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে অন্য কোনও আধুনিক বা অপ্রচলিত সম্পর্কে জড়াতে আপত্তি প্রকাশ করছেন না। এমনকি পারস্পরিক সম্মতিতে অন্য ব্যক্তি বা দম্পতির সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার মতো পশ্চিমা ধারণা ‘সুইংগিং’-এর প্রতিও ভারতীয়দের একাংশের আগ্রহ বাড়ছে। সমাজ ও মনস্তত্ত্বের এই দ্রুত রূপান্তর আগামী দিনে ভারতের সনাতন পারিবারিক কাঠামো এবং আইনি জটিলতার ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
