পুনে স্টেশনে ঢোকার মুখেই লাইনচ্যুত বন্দে ভারত! অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা, তদন্তে রেল

পুনে স্টেশনে ঢোকার মুখেই লাইনচ্যুত বন্দে ভারত! অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা, তদন্তে রেল

সোমবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস থেকে সোলাপুর যাওয়ার পথে পুনে স্টেশনের কাছে বড়সড় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ ট্রেনটি যখন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছিল, তখনই চতুর্থ কোচের একটি ট্রলি ডায়মন্ড ক্রসিংয়ে লাইনচ্যুত হয়। তবে গতি কম থাকায় এবং প্ল্যাটফর্মের খুব কাছে ঘটনাটি ঘটায় প্রাণহানির মতো বড় কোনো বিপত্তি ঘটেনি। ট্রেনের সমস্ত যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন বলে রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

যান্ত্রিক ত্রুটি না কি পরিকাঠামোগত জটিলতা

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্টেশনের প্রবেশপথের জটিল ‘ডায়মন্ড ক্রসিং’ অতিক্রম করার সময় এই বিভ্রাট ঘটে। ডায়মন্ড ক্রসিং হলো রেললাইনের এমন একটি অংশ যেখানে দুটি ভিন্ন ট্র্যাক একে অপরকে আড়াআড়িভাবে অতিক্রম করে। পুনে স্টেশনের এই অংশটি বর্তমানে ইয়ার্ড রিমডেলিং প্রকল্পের আওতায় আধুনিকীকরণের কাজ চলছিল। প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই এলাকায় ট্র্যাকের সংযোগস্থলে কোনো সমস্যার কারণে ট্রলিটি সরে গিয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রেলের টেকনিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও, দেশের অন্যতম দ্রুতগতির ট্রেনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনার কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি এড়াতে স্টেশনের সংবেদনশীল ট্র্যাক ও ক্রসিং পয়েন্টগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে আরও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

এক ঝলকে

  • সোমবার সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে পুনে স্টেশনে ঢোকার মুখে লাইনচ্যুত হয় ২২২২৫ বন্দে ভারত এক্সপ্রেস।
  • চতুর্থ কোচের একটি ট্রলি ডায়মন্ড ক্রসিংয়ে লাইন থেকে ছিটকে গেলেও কোনো যাত্রী আহত হননি।
  • ট্রেনের গতি কম থাকায় এবং ঘটনাস্থল প্ল্যাটফর্মের কাছে হওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে।
  • রেলের টেকনিক্যাল টিম লাইনচ্যুত হওয়ার সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *