পুর-নিয়োগ দুর্নীতি: এবার শ্রীঘরে সুজিত বসু, ১৫০ অযোগ্যকে পাইয়ে দিয়েছিলেন চাকরি! – এবেলা

পুর-নিয়োগ দুর্নীতি: এবার শ্রীঘরে সুজিত বসু, ১৫০ অযোগ্যকে পাইয়ে দিয়েছিলেন চাকরি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: দীর্ঘ টালবাহানা আর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার পর প্রায় সারা দিন ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি সংক্রান্ত অকাট্য তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পরেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে বিশেষ আদালতে পেশ করার কথা।

অযোগ্যদের সুপারিশ ও বিপুল সম্পত্তির হদিশ

ইডি সূত্রে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার বিভিন্ন পদে অন্তত ১৫০ জন অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন সুজিত বসু। অভিযোগ, এই বিশাল সংখ্যক প্রার্থীর থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনা এবং অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি তৈরিতে। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর প্রাক্তন মন্ত্রীর বাসভবন ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা নগদ এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছিলেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। এছাড়া, তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা করার তথ্যও এখন গোয়েন্দাদের নজরে।

ওএমআর কারচুপি এবং দুর্নীতির প্রভাব

পুর-নিয়োগ দুর্নীতির এই জাল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অয়ন শীলের সংস্থা ‘এবিএস ইনফোজোন’-কে ব্যবহার করে ওএমআর শিট এবং প্রশ্নপত্র ছাপানোর আড়ালে চলত জালিয়াতি। দক্ষিণ দমদম ছাড়াও কামারহাটি, বরানগর ও টিটাগড়ের মতো একাধিক পুরসভায় মজদুর থেকে শুরু করে ক্লার্ক নিয়োগের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। প্রভাবশালীদের মদতে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে টাকার বিনিময়ে ওএমআর শিটে নম্বর বাড়িয়ে অযোগ্যদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।

বারবার ইডির সমন এড়িয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত আইনি রক্ষাকবচ বা ব্যক্তিগত কারণ সুজিত বসুকে গ্রেফতারির হাত থেকে বাঁচাতে পারল না। হাই কোর্টের নির্দেশে সিবিআই এফআইআর দায়ের করার পর থেকেই তদন্তের গতিমুখ ঘুরে গিয়েছিল প্রাক্তন এই মন্ত্রীর দিকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের পরবর্তী সময়ে এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এক নতুন মোড় নিয়ে এল। এখন দেখার, আদালতের সওয়াল-জবাব পর্বে সুজিত বসুর পক্ষ থেকে কী সাফাই দেওয়া হয় এবং তদন্তের জাল আরও কতদূর বিস্তৃত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *