পুরনিয়োগ দুর্নীতি: এবার ইডির মুখোমুখি পাচু! সুজিতের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জেরার সম্ভাবনা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে গতি বাড়িয়ে দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়কে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজির হন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই মামলায় সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর মুখোমুখি বসিয়েও তাঁকে জেরা করা হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দুর্নীতির নেপথ্য কারণ
ইডির তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনিভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার পেছনে একটি বড় চক্র কাজ করেছিল। এই নিয়োগ তালিকায় প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের নাম তালিকায় ঢোকানো হয়েছিল এবং এর বিনিময়ে বিপুল আর্থিক লেনদেন বা অন্যায্য সুবিধা নেওয়া হয়েছিল। পূর্ববর্তী তদন্তে ও সিবিআইয়ের চার্জশিটে দক্ষিণ দমদমের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের নাম উঠে আসায় এই চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে মরিয়া কেন্দ্রীয় সংস্থা।
তদন্তের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
গত সপ্তাহে সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পর গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু বর্তমানে ইডির হেফাজতে রয়েছেন। পাচু রায়কে তাঁর মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হলে এই নিয়োগ দুর্নীতির সুবিধাভোগী এবং অর্থ লেনদেনের আসল উৎস সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকেরা। যদিও অতীতে পাচু রায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক হেনস্থা বলে দাবি করেছিলেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই প্রভাবশালীকে একসঙ্গে জেরা করার পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতি ও পুর প্রশাসনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দিলেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়।
- সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া এবং বর্তমানে ইডি হেফাজতে থাকা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর মুখোমুখি বসিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনা রয়েছে।
- দক্ষিণ দমদম পুরসভায় প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম বেআইনিভাবে সুপারিশ করার এবং তার বিনিময়ে অন্যায্য সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
- কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের জমা দেওয়া চার্জশিটেও পূর্বে পাচু রায়ের নাম উল্লেখ ছিল।
