পুরনিয়োগ দুর্নীতিতে ইডির সাঁড়াশি চাপ! ৬ মে সুজিত বসুর সঙ্গে সিজিওতে তলব মন্ত্রী রথীন ঘোষকেও

রাজ্যে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এবার গতি বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শাসকদলের ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ আরও বাড়িয়ে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীকে একই দিনে তলব করা হলো। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পাশাপাশি আগামী ৬ মে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী রথীন ঘোষকেও। ভোটগণনার ঠিক অব্যবহিত পরেই এই জোড়া তলব রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবারই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে সেই পর্ব শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আগামী ৬ মে তাঁকে পুনরায় তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হবে। তবে এবারের হাজিরায় তাঁকে খালি হাতে আসতে বারণ করা হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা সুজিত বসুকে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে আসার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট, মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ার এবং অন্যান্য আর্থিক বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইডি আধিকারিকরা এই নথিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে পুর দুর্নীতির কালো টাকার কোনো যোগসূত্র বা মানি ট্রেইল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন।
সুজিত বসুর পাশাপাশি একই দিনে ইডির স্ক্যানারে রয়েছেন রাজ্যের আরেক মন্ত্রী রথীন ঘোষ। উল্লেখ্য, রথীন ঘোষ একসময় মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে মূলত সেই সময়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টিই রয়েছে। এর আগেও তাঁর বাড়ি ও ঘনিষ্ঠদের ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতিতে কোনো বৃহত্তর চক্র কাজ করছিল কি না এবং তার আর্থিক ফায়দা কাদের কাছে পৌঁছেছিল, তা নিশ্চিত করতেই এই দুই মন্ত্রীকে একই দিনে ডেকে পাঠিয়ে তদন্তকারীরা সম্ভবত বয়ান মিলিয়ে দেখার কৌশল নিতে চলেছেন।
রাজ্যের একাধিক পুরসভায় বেআইনিভাবে টাকার বিনিময়ে সাফাইকর্মী, মজদুর, ক্লার্ক এবং পিয়ন পদে নিয়োগের যে পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ উঠেছে, ইডি এখন তার শেকড় খুঁজতে মরিয়া। অয়ন শীলের সূত্র ধরে শুরু হওয়া এই তদন্তে আর্থিক লেনদেনের জাল কতদূর ছড়িয়েছে, তা বের করতেই রাজ্যের মন্ত্রীদের লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একদিকে ৪ মে-র ভোটগণনার রাজনৈতিক উত্তাপ, আর অন্যদিকে ৬ মে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির জোড়া তলব—সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহটি রাজ্য প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও অস্বস্তিকর হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
