পুরুষের বন্ধ্যাত্ব: লোকলজ্জা কাটিয়ে আধুনিক চিকিৎসায় মিলবে সমাধান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সন্তান ধারণে অক্ষমতার জন্য সমাজ আজও এককভাবে নারীকে দায়ী করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বন্ধ্যাত্ব নারী বা পুরুষ যে কারও হতে পারে। সাধারণত কোনো সুরক্ষা ছাড়াই এক বছর নিয়মিত মিলনের পর সন্তান না এলে তাকে চিকিৎসারি পরিভাষায় বন্ধ্যাত্ব বলা হয়। পুরুষের ক্ষেত্রে প্রধানত শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস, গতিশীলতার অভাব কিংবা আকৃতিগত ত্রুটির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া শারীরিক অক্ষমতাও অনেক সময় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, পরিবেশ দূষণ, ধূমপান এবং ল্যাপটপ-মোবাইলের অতিরিক্ত বিকিরণ শুক্রাণুর গুণমান নষ্ট করছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কিংবা ক্যানসারের চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ‘এজোস্পার্মিয়া’ বা শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে কারণ অজানা থাকলেও আধুনিক খাদ্যাভ্যাস এবং নেশাদ্রব্য বর্জন করে শুক্রাণুর গুণমান বজায় রাখা সম্ভব বলে চিকিৎসকরা মনে করেন।
বর্তমানে বন্ধ্যাত্ব দূর করতে উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। হরমোন থেরাপি ছাড়াও যাদের শুক্রাণুর সংখ্যা অত্যন্ত কম, তাদের জন্য আইভিএফ (IVF) বা ‘ইকসি’ (ICSI) আশীর্বাদ স্বরূপ। এমনকি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শুক্রাণু চলাচলের নালীর ব্লকেজ দূর করাও সম্ভব। ক্যানসার আক্রান্তরা আগাম শুক্রাণু সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে বাবা হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তাই লোকলজ্জা ভুলে সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

