পৃথিবীর বাইরে কি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে? এলিয়েন ও ইউএফও রহস্য উন্মোচনে ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ঘোষণা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মহাকাশের গভীরে লুকিয়ে থাকা অজানা রহস্য কি এবার মানুষের সামনে আসতে চলেছে? এলিয়েন এবং ভিনগ্রহের যান বা ইউএফও (UFO) নিয়ে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা জল্পনার অবসান ঘটাতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, এলিয়েন, বহির্জাগতিক প্রাণ এবং ‘আনআইডেন্টিফাইড অ্যারিয়াল ফেনোমেনা’ (UAP) সংক্রান্ত সমস্ত গোপন সরকারি নথি জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
যুদ্ধ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগ ও সংস্থাকে ট্রাম্প স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যেন এই সংক্রান্ত ফাইলগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে, কারণ আমেরিকার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট এত সরাসরি এলিয়েন ফাইল খোলার প্রতিশ্রুতি দিলেন।
ওবামার মন্তব্য এবং ট্রাম্পের পাল্টা তোপ
এই নাটকীয় ঘোষণার প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার। ওবামা একটি পডকাস্টে দাবি করেছিলেন যে, ইউএফও বা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুগুলো আদতে সত্যি, যদিও তিনি নিজে কখনও এলিয়েন দেখেননি। ওবামা আরও জানান যে, এরিয়া ৫১-এ কোনো ভিনগ্রহের প্রাণীকে বন্দি করে রাখা হয়নি।
তবে ট্রাম্প ওবামার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, ওবামা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গোপনীয় তথ্য ফাঁস করে বড় ভুল করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “আমি জানি না এলিয়েনরা বাস্তবে আছে কি না, কিন্তু ওবামা যা করেছেন তা তাঁর করা উচিত হয়নি।”
এরিয়া ৫১ এবং দীর্ঘদিনের জনদাবি
আমেরিকার নেভাদা মরুভূমিতে অবস্থিত রহস্যময় সামরিক ঘাঁটি ‘এরিয়া ৫১’ নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষ ও গবেষকরা দাবি জানিয়ে আসছেন যে, পেন্টাগনের কাছে থাকা এলিয়েন সংক্রান্ত পুরনো রিপোর্ট এবং মহাকাশযান সংক্রান্ত নথিগুলো প্রকাশ করা হোক। এমনকি মার্কিন কংগ্রেসও গত কয়েক বছরে ইউএপি (UAP) নিয়ে একাধিক শুনানি করেছে এবং কিছু অস্পষ্ট ভিডিও প্রকাশ করেছে। ট্রাম্পের পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট এলিয়েন ও মহাকাশযান নিয়ে একটি বিশেষ ভাষণের খসড়া তৈরি করে রেখেছেন, যা সঠিক সময়ে প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক কৌশল নাকি স্বচ্ছতা?
ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এপস্টাইন ফাইল বা বর্তমান সরকারের অন্যান্য বিতর্কিত ইস্যু থেকে জনমানসের দৃষ্টি ঘোরাতেই ট্রাম্প এই ‘এলিয়েন কার্ড’ খেলেছেন। তবে ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশের মতো এটিও তাঁর স্বচ্ছতা নীতিরই অংশ।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান
এলিয়েন রহস্যের পাশাপাশি ট্রাম্প আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও উত্তাপ বাড়িয়েছেন। বোর্ড অফ পিস-এর বৈঠকে চীন ও রাশিয়াকে নিয়ে বড় বয়ান দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এর মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ফল অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
এলিয়েন ফাইল প্রকাশের এই ঘোষণা মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে নাকি এটি কেবল একটি রাজনৈতিক চমক হিসেবেই থেকে যাবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

