পেটে ব্যথার আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়াবহ সত্য, জলন্ধরে স্কুলছাত্রীর সন্তান প্রসবের ঘটনায় তোলপাড় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অমৃতসরের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর পেটে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর সামনে এসেছে এক মর্মান্তিক ও অন্ধকার অধ্যায়। পরিবারের সদস্যরা সাধারণ অসুস্থতা মনে করে ফিল্লোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রীটি আসলে অন্তঃসত্ত্বা। সেখানেই সে একটি সন্তানের জন্ম দেয়, যা শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েন তার আত্মীয়রা।
নির্যাতনের শিকার ও লোকলজ্জার ভয় তদন্তে জানা গেছে, গত সাত মাস ধরে জলন্ধরে পিসির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল ওই কিশোরী। পিসির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে জানায়, কয়েকমাস আগে অমৃতসরে তাদের প্রতিবেশী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর তাকে ধর্ষণ করে। লোকলজ্জা আর চরম ভয়ে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সে কাউকে জানায়নি। এমনকি দেড় মাস আগে একবার পেটে ব্যথা হলেও বিষয়টি কারো নজরে আসেনি।
আইনি পদক্ষেপ ও জিরো এফআইআর ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জলন্ধর গ্রামীণ পুলিশ ২০ এপ্রিল একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করেছে। অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যেহেতু মূল অপরাধটি অমৃতসর এলাকায় ঘটেছে, তাই মামলাটি দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই ঘটনা কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক সচেতনতার অভাবকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনেছে। যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নাবালিকা ও তার নবজাতকের সুরক্ষার বিষয়টি এখন প্রশাসনের নজরে।
এক ঝলকে
- ১৫ বছরের স্কুলছাত্রীর পেটে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর সন্তান প্রসব।
- অমৃতসরের প্রতিবেশী ১৬ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ।
- ভয় ও লোকলজ্জার কারণে দীর্ঘ কয়েকমাস ঘটনাটি গোপন রেখেছিল নির্যাতিতা।
- পুলিশের জিরো এফআইআর দায়ের এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা।
