পেট্রোলের দুশ্চিন্তা কমাতে হিরোর ফ্লেক্স ফুয়েল বাইকে বড় ছাড়, এক ধাক্কায় দাম কমল ৪ হাজার টাকা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের বাজারে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে বড় পদক্ষেপ নিল শীর্ষ দু-চাকা প্রস্তুতকারক সংস্থা হিরো মটোকরপ (Hero MotoCorp)। তাদের জনপ্রিয় ফ্লেক্স-ফুয়েল (E85) মোটরবাইক ‘স্প্লেন্ডার প্লাস ফ্লেক্স’ (Splendor Plus Flex) এবং ‘এইচএফ ডিলাক্স ফ্লেক্স’ (HF Deluxe Flex)-এর ওপর বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ক্রেতারা এই দুই মডেলে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাবেন। এই ছাড়ের ফলে ফ্লেক্স-ফুয়েল বাইক দুটির দাম সাধারণ মডেলের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার ও মূল্যের সমীকরণ
মূলত জ্বালানি খরচ কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার দেশজুড়ে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। তবে সাধারণ পেট্রোল ইঞ্জিন উচ্চ মাত্রার ইথানল (যেমন E85) জ্বালানির জন্য উপযুক্ত নয়। এই কারণে অটোমোবাইল সংস্থাগুলো এখন বিশেষভাবে E85 কমপ্লায়েন্ট ইঞ্জিন তৈরি শুরু করেছে। হিরোর এই দুই মডেলেই রয়েছে ৯৭.২ সিসির ইঞ্জিন, যা E20 এবং E85 উভয় ধরনের জ্বালানিতেই চলতে সক্ষম। এই নতুন প্রযুক্তির প্রতি সাধারণ গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়াতেই মূলত এই বিশেষ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
ছাড়ের পর ‘স্প্লেন্ডার প্লাস ফ্লেক্স’-এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে ৭৮,৭১০ টাকা থেকে, যা এর স্ট্যান্ডার্ড মডেলের চেয়ে মাত্র ১,১৫৩ টাকা বেশি। অন্যদিকে, ‘এইচএফ ডিলাক্স ফ্লেক্স’-এর দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮,৭৯২ টাকায়, যা এর স্ট্যান্ডার্ড মডেলের তুলনায় ১,৬৫০ টাকা কম।
বাজারের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রাপ্যতা
হিরো মটোকরপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির এই বাইকগুলো এখনও দেশের সব শোরুমে পৌঁছায়নি। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আপাতত দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু ডিলারশিপেই এই মডেল দুটি বিক্রি করা হচ্ছে। তবে পর্যায়ক্রমে তা দেশের অন্যান্য বাজারেও সরবরাহ করা হবে।
অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে দেশে ১০০ শতাংশ ইথানল চালিত গাড়ি ও বাইক আনার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে হিরোর এই সময়োপযোগী মূল্যহ্রাস ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বড় ভূমিকা পালন করবে। সাধারণ বাইকের তুলনায় দামের ব্যবধান কমে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ক্রেতারা পরিবেশবান্ধব বিকল্প বেছে নিতে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে দেশের বিকল্প জ্বালানি বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
