প্রতি ১০ জন পড়ুয়ার মধ্যে ১ জন স্কুলছুট! নীতি আয়োগের রিপোর্টে উঠে এল দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার কঙ্কালসার ছবি – এবেলা

প্রতি ১০ জন পড়ুয়ার মধ্যে ১ জন স্কুলছুট! নীতি আয়োগের রিপোর্টে উঠে এল দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার কঙ্কালসার ছবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: ভারতের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় মাধ্যমিক স্তরটি এখনও সবচেয়ে দুর্বল যোগসূত্র হিসেবে রয়ে গেছে। নীতি আয়োগের ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত ‘ভারতবর্ষে স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার প্রসারে নানা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও, মাধ্যমিক স্তরে প্রতি দশজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন পড়াশোনা মাঝপথেই ছেড়ে দিচ্ছে।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই রিপোর্টে দেখা গেছে, জাতীয় স্তরে মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুলছুটের গড় হার ১১.৫ শতাংশ। যদিও গত এক দশকে এই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবুও সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মাধ্যমিক স্তরের এই উচ্চ হার নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

রাজ্যভিত্তিক খতিয়ান ও বৈষম্য

স্কুলছুটের হারের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। চণ্ডীগড় (২%), ঝাড়খণ্ড (৩.৫%), উত্তরাখণ্ড (৪.৬%) এবং কেরালা (৪.৮%) এই হার নিয়ন্ত্রণে রেখে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। বিপরীতে, গুজরাট (১৬.৯%), মধ্যপ্রদেশ (১৬.৮%) এবং লাদাখের (১৬.২%) মতো রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে স্কুলছুটের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং ওড়িশায় এই হার ১৫ শতাংশ বা তার আশেপাশে অবস্থান করছে। মহারাষ্ট্র এবং সিকিমের মতো রাজ্যেও এই হার ১১ শতাংশের উপরে।

সাফল্যের দৃষ্টান্ত ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ

রিপোর্টে কিছু রাজ্যের অভাবনীয় পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওড়িশা তাদের স্কুলছুটের হার ৪৯.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। একইভাবে ঝাড়খণ্ডে এই হার ২৩.২ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫ শতাংশ হয়েছে এবং বিহারে ২৫.৩ শতাংশ থেকে কমে ৬.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। রাজস্থান ও কেরালাও তাদের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছে।

ঝুঁকির কারণ ও প্রভাব

নীতি আয়োগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরে এই স্কুলছুটের নেপথ্যে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে— তীব্র অর্থনৈতিক চাপ, অল্প বয়সেই কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাব। শিক্ষার এই স্তরে এসে পড়ুয়ারা যখন ঝরে পড়ে, তখন তা দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ জনশক্তির অভাব তৈরি করে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করেছে যে, কিছু রাজ্যে সাফল্য এলেও মাধ্যমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন করতে এবং পড়ুয়াদের শ্রেণিকক্ষে ধরে রাখতে এখনো জাতীয় স্তরে আরও সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *