প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়েছিলেন মা, এই সুযোগে বাড়িতেই মেয়ের সঙ্গে চরম কুকীর্তি বাবার, বাঁচাতে এল না ভাইও! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হরিয়ানার সোনিপতে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর অনার কিলিংয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের পছন্দমতো ছেলেকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় নিজের মেয়ের জীবন কেড়ে নিলেন বাবা। এএনএম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী চীনুর এমন করুণ পরিণতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। পেশায় পরিবহন ব্যবসায়ী অনিল কুমার তার মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পারিবারিক বিবাদ
চীনু নামের ওই তরুণী পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার পরিবার এই সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধী ছিল। পরিবার চেয়েছিল চীনু তাদের পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করুক। এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই পরিবারে অশান্তি চলছিল। বিবাদ এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, এর আগে কয়েকবার হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তরুণী পুলিশের ‘দুর্গা শক্তি’ টিমের সাহায্যও নিয়েছিলেন।
পুলিশের উপস্থিতির পরপরই মর্মান্তিক হামলা
রবিবার সকালে চীনুর মা যখন প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়েছিলেন, তখন বাড়িতে ছিলেন বাবা অনিল ও তার ভাই। পুলিশ যখন বাড়িতে পৌঁছায়, তখন দুই মহিলা পুলিশ কর্মী প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে বাবা ও মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেন অনিল। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়ে রান্নাঘরের ধারালো ছুরি দিয়ে মেয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন তিনি। শেষে গলা কেটে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই সময় ঘরে উপস্থিত ভাই বোনকে বাঁচানোর কোনো চেষ্টাই করেনি।
আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাপ্লুত অবস্থায় চীনুর মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত বাবা অনিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মা এবং ভাইকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুরো ঘটনায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি সাজানো গোছানো পরিবারে মতভেদের জেরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজের নৈতিক অবক্ষয়কেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
এক ঝলকে
ঘটনার স্থান: সোনিপত, হরিয়ানা।
ভিকটিম: চীনু (এএনএম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী)।
মূল অভিযুক্ত: বাবা অনিল কুমার (পেশায় পরিবহন ব্যবসায়ী)।
হত্যার কারণ: তরুণী নিজের পছন্দে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, যা পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ করবে বলে মনে করত বাবা।
হত্যাকাণ্ডের ধরন: ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত ও গলা কেটে হত্যা।
পুলিশি ব্যবস্থা: বাবা, মা ও ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
