প্রথম দফায় কি কেল্লাফতে করল ঘাসফুল শিবির! ১২৫ আসন বেড়ে হতে পারে ১৩৫, জয়ের আত্মবিশ্বাসে ফুটছে তৃণমূল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতেই জয়ের হিসেবে নতুন মাত্রা যোগ করল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা ও ভোটদানের হার বিশ্লেষণ করে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে তারা অন্তত ১২৫টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ঘাসফুল শিবিরের নেতারা মনে করছেন, এই সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১৩৫-এ পৌঁছানোও আসাম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জনসভা থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দল ইতিমধ্যেই ‘চালকের আসনে’ বসে আছে।
মহিলা ভোট ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রভাব
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর মতে, এই বিপুল জয়ের প্রধান কারণ হলো সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, বিশেষত মহিলাদের রেকর্ড ভোটদান। দলের শীর্ষ মহলের দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে মানুষ ব্যালটে জবাব দিয়েছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুফল যে সরাসরি ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে, তা তৃণমূল নেতাদের আত্মবিশ্বাসী সুরেই স্পষ্ট।
বিজেপির দাবি ও পাল্টা হিসাব
অন্যদিকে, তৃণমূলের এই দাবির বিপরীতে বিজেপিও সমসংখ্যক আসনে জেতার দাবি তুলেছে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টাচাল হিসেবে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর হারের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ ভোটদানের হার সাধারণত সরকার বিরোধী হাওয়া হিসেবে দেখা গেলেও, তৃণমূল এখানে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলছে যে, ভোটারদের সচেতন অংশগ্রহণ আসলে সরকারের প্রত্যাবর্তনকেই নিশ্চিত করতে চলেছে। দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের ভোট সম্পন্ন হলে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে বলেই তৃণমূলের ধারণা।
এক ঝলকে
- প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১২৫ থেকে ১৩৫টি আসনে জয়ের দাবি করল তৃণমূল।
- রেকর্ড ভোটদানের হারকে মমতার সরকারের পক্ষে ‘জনজোয়ার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে শাসকদল।
- কুণাল ঘোষ ও ব্রাত্য বসুর দাবি অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রভাব ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছেন।
- আগামী দফার ভোট শেষে বিজেপি কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়বে বলে মত জোড়াফুল শিবিরের।
